শারীরিক অক্ষমতা তুচ্ছ! হুইলচেয়ারে বসেই NEET পাশ করে ডাক্তারি পড়ার পথে পুরুলিয়ার চন্দন

২০১৫ সালে এক মর্মান্তিক মোটরবাইক দুর্ঘটনায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র চন্দন মাঝি প্যারালাইজড হয়ে যায়। সেই থেকে তার সঙ্গী কেবল হুইলচেয়ার। কিন্তু এই শারীরিক অক্ষমতা তার অদম্য স্বপ্নকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পুরুলিয়ার বাগমুন্ডি ব্লকের এই তরুণ এবার মেধা ও লড়াইয়ের জোরে NEET পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ডাক্তারি পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
এসএসকেএমের অবহেলা, হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ
NEET পাশ করার পর চন্দন শারীরিক অক্ষমতার মূল্যায়নের জন্য কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, হাসপাতাল তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। এই ঘটনায় হতাশ হলেও সে হাল ছাড়েনি, বরং আইনের সাহায্য নেয়। কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বেঞ্চ দ্বিতীয়বার মূল্যায়নের জন্য দিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
সেখানেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ডাক্তারি পড়ার জন্য অনুমতি পায় চন্দন। যে তরুণ এক দুর্ঘটনায় নিজের ভবিষ্যৎ প্রায় হারিয়ে ফেলেছিল, সেই তরুণ আজ নিজের অদম্য মেধা ও লড়াইয়ের মাধ্যমে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। হুইলচেয়ারে জীবন কাটানো সত্ত্বেও তার এই সাফল্য আজকের যুব সমাজকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে।