শব্দ তাণ্ডব বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি, কালীপুজোর আগে ‘না শোনার আইনি অধিকার’ নিয়ে সরব পরিবেশকর্মীরা

আসন্ন কালীপুজো ও ছট পুজোকে সামনে রেখে রাজ্যে শব্দ তাণ্ডব জব্দ করতে আবারও পথে নামলেন পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা। আদালতের ঐতিহাসিক রায় উল্লেখ করে সাধারণ মানুষের ‘না শোনার আইনি অধিকার’ প্রয়োগের পক্ষে সওয়াল করে তাঁরা পুলিশ ও দূষণ পর্ষদের ওপর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করছেন। সবুজ মঞ্চ-এর উদ্যোগে এই প্রচার কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে এবং তা কয়েক দিন ধরে চলবে।
আদালতের রায় নিয়ে প্রচার:
পরিবেশকর্মীরা যে লিফলেট বিলি করছেন, তাতে তাঁরা স্পষ্ট দাবি করেছেন: “আমাদের না শোনার আইনি অধিকারের প্রয়োগ চাই। আমরা শব্দ আইন ভাঙব না, শব্দ আইন ভাঙা মানবও না।”
তাঁরা প্রয়াত বিচারপতি ভগবতীপ্রসাদ বন্দোপাধ্যায়ের ১৯৯৬ সালে দেওয়া ঐতিহাসিক রায়ের কথা তুলে ধরেন, যেখানে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ‘না শোনার’ অধিকার দিয়েছিলেন।
সবুজ মঞ্চের তরফে দেবাশিস রায় আক্ষেপ করে বলেন, “একসময় সারা দেশের কাছে শব্দদূষণ রক্ষায় মডেল হওয়া পশ্চিমবঙ্গ আজ শব্দদূষণে প্রথম সারিতে। এর কারণ শব্দ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা অভাব।”
পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে সবুজ মঞ্চের ৭ দফা দাবি:
শব্দদূষণের কারণে অসুস্থ মানুষজনের সমস্যা এবং পরিবেশ কর্মীদের আন্দোলনের দুর্বলতার কথা তুলে ধরে সবুজ মঞ্চ বেশ কিছু কঠোর দাবি জানিয়েছে:
১. আইনের কঠোর প্রয়োগ: পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ শব্দ-আইন সংক্রান্ত আদালতের রায়কে কঠোরভাবে প্রয়োগ করুক।
২. রাত ১০টার পর মাইক বন্ধ: রাত ১০টার পর কোনোভাবেই রাজনৈতিক, সামাজিক বা ধর্মীয় কারণে খোলা জায়গায় মাইক বাজানো চলবে না। না-হলে আইনভঙ্গকারী কর্মী/প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় থানাকে অভিযুক্ত করতে হবে।
৩. সারা বছর অভিযান: নিষিদ্ধ শব্দবাজি তৈরি, বিক্রি ও ব্যবহার আটকাতে সারা বছর ধরে অভিযান চালাতে হবে।
৪. অবৈধ বাজি কারখানা বন্ধ: রাজ্যে তিনটি আইনানুগ বাজি কারখানা ছাড়া বাকি সমস্ত ছোট-বড় বাজি কারখানা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. ডিজে সম্পূর্ণ বন্ধ: প্রকাশ্যে ও খোলা জায়গায় ডিজে-র মাধ্যমে সৃষ্ট শব্দ তাণ্ডব সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে, যা বয়স্ক ও শিশুদের ভয়ানক সমস্যার কারণ হয়।
৬. শব্দশহিদদের ন্যায়বিচার: শব্দদূষণের বিরোধিতা করে এখন পর্যন্ত যে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের মামলাগুলিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে শব্দখুনিদের অবিলম্বে শাস্তি দিতে হবে এবং সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাহায্য করতে হবে।
৭. সাধারণের ভূমিকা: সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিতে হবে।
এই কঠোর দাবিগুলি সামনে রেখেই সবুজ মঞ্চের প্রচার চলছে। এর পাশাপাশি জলাশয় রক্ষা, গাছ কাটার প্রতিবাদ এবং বৃক্ষরোপণ করার মতো বিষয়ও তাঁদের প্রচারে উঠে এসেছে।