লালকেল্লার বদলে কি এবার সুন্দরবনে ঝড় তুলবেন শুভেন্দু? স্বাধীনতা দিবসে আসছে মেগা চমক!

স্বাধীনতার প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। কলকাতার রেড রোডের ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান শেষ করে এবার সরাসরি সুন্দরবনের কোনো একটি প্রত্যন্ত দ্বীপে পা রাখতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতা দিবসের দিন সুন্দরবনের কোলে তেরঙ্গা যাত্রা এবং ঐতিহাসিক জাতীয় পতাকা উত্তোলনের একটি বিশাল কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে জোরকদমে তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর মিলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বিশেষ আগ্রহ ও ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষমহলে এবং পুলিশি মহলে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ করা গেছে। কোন নির্দিষ্ট দ্বীপে এই অনন্য ও হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা সবদিক থেকে নিরাপদ ও উপযোগী হবে, তা নির্ধারণ করতে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছেন রাজ্য পুলিশের এডিজি কোস্টাল এবং এডিজি দক্ষিণবঙ্গ।

সুন্দরবনের দুর্গম ও নদীবেষ্টিত দ্বীপগুলির স্পর্শকাতর ভৌগোলিক অবস্থান এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ওই দুই শীর্ষ পুলিশকর্তা সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তাদের এই উচ্চপর্যায় পরিদর্শনের পরই অনুষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট স্থান চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। স্থান নির্বাচন চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে ঝাঁপিয়ে পড়বেন রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের এই সম্ভাব্য সুন্দরবন সফর ঘিরে উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও দারুণ উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, চলতি বছরের স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে জাতীয় স্তরেও এক সুদূরপ্রসারী ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে চলেছে ভারতের মুকুটসম সৌধ ঐতিহাসিক লালকেল্লা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে জানানো হয়েছে যে, ১৫ অগাস্ট স্বাধীন ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের বিশেষ মুহূর্তে এই প্রথমবার লালকেল্লার প্রাঙ্গণ থেকে সুমধুর সুরে গাওয়া হবে অমর দেশাত্মবোধক গান ‘বন্দে মাতরম’। চলতি বছর ভারতের স্বাধীনতার অন্যতম প্রেরণা এই গীতের ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। সেই ঐতিহাসিক সার্ধশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতেই এবারের স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এই গানটিকে বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে আরও প্রকাশ, এ বছরের মূল স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের কেন্দ্রীয় থিম বা ভাবনা নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘যুব শক্তি—বিকশিত ভারতের যাত্রায় নেতৃত্ব’। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রাণশক্তি এবং দূরদর্শী ভূমিকার ওপর এবার সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হবে। শুধু তাই নয়, প্রতিবারের মতো এবার লালকেল্লার ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানসূচিতেও কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রোটোকল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লালকেল্লায় এসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই অন্যান্য প্রথাগত বার্তার পরিবর্তে সবার আগে সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশন করা হবে ‘বন্দে মাতরম’। এরপর নির্ধারিত সময়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় জনমানসের প্রতীক ‘জন গণ মন’ জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর বাকি আনুষ্ঠানিকতা ও কুচকাওয়াজ সম্পন্ন হবে।