গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস ডেকে আনছে বড় বিপদ! ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেনে চলুন এই সহজ কৌশলগুলি

মাতৃত্বের পথে হাঁটা প্রতিটি নারীর জীবনেই এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সুন্দর সময়। কিন্তু এই বিশেষ সময়ে হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক ওঠানামা এবং পরিবারের চাপের কারণে গর্ভবতী মায়েরা প্রায়শই অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন। অনেকেই মনে করেন, গর্ভে থাকা শিশুর পুষ্টির জন্য দ্বিগুণ পরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল এবং অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ওজন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি কেবল মায়ের নিজের স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং এটি উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, অম্লতা এবং প্রসবকালীন নানা জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা রোধ করতে কিছু সহজ ও কার্যকর নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, গর্ভাবস্থার শুরুতেই ‘দু’জনের জন্য খাওয়ার’ এই প্রচলিত মিথ বা ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রথম ত্রৈমাসিকে স্বাভাবিক ক্যালোরি গ্রহণ করলেই যথেষ্ট, কারণ এই সময়ে ভ্রূণের আকার অত্যন্ত ক্ষুদ্র থাকে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে প্রতিদিন মাত্র ৩০০ থেকে ৪৫০ অতিরিক্ত ক্যালোরির প্রয়োজন হয়।
সারাদিনে বড় বড় এক বা দুটি ভারী খাবার খাওয়ার পরিবর্তে খাবারকে ৫ থেকে ৬টি ছোট ভাগে ভাগ করে খাওয়া উচিত। প্রতি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা অন্তর হালকা ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে রক্তের শর্করা বা ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হঠাৎ তীব্র ক্ষিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এছাড়া পাতে প্রোটিন এবং ফাইবারের পরিমাণ বাড়ানো অত্যন্ত কার্যকর। দই, ডিম, পনির, অঙ্কুরিত ছোলা, ডাল এবং টোন্ড মিল্কের পাশাপাশি সবুজ শাকসবজি, ওটস ও মৌসুমি ফল খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে।
অনেক সময় হরমোনের তারতম্যের কারণে আসল ক্ষিদে এবং মানসিক ক্রেভিং বা মুখরোচক খাবারের ইচ্ছার মধ্যে পার্থক্য বোঝা যায় না। তাই যখনই কিছু খাওয়ার ইচ্ছা করবে, প্রথমে এক গ্লাস জল বা ডাবের জল খেয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করা উচিত। শরীরের জলের ঘাটতি অনেক সময় ক্ষিদের মতো অনুভূত হয়। প্রসেসড ফুড, কোল্ড ড্রিংকস, পিজ্জা এবং প্যাকেটজাত খাবারের মতো খালি ক্যালোরিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলি রক্তে শর্করা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয় এবং অল্পক্ষণেই আবার ক্ষিদে পায়। এর পরিবর্তে সবসময় ঘরের তৈরি তাজা ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
খাওয়ার সময় মোবাইল বা টেলিভিশন দেখা কিংবা মানসিক উদ্বেগের মধ্যে থাকা অতিরিক্ত খাওয়ার অন্যতম বড় কারণ। তাই খাবার খাওয়ার সময় মনযোগ শুধু খাবারের দিকেই রাখা উচিত এবং অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় নিয়ে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খাওয়া দরকার। পর্যাপ্ত ঘুমও এই সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের ঘাটতি বা মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে ক্ষিদে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা মা ও অনাগত সন্তান উভয়কেই সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।