লাদাখে ৪ মৃত্যুর বিচার না হওয়া পর্যন্ত ‘জেলেই থাকতে রাজি’, সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরুর আগে সোনাম ওয়াংচুকের চরম বার্তা!

লাদাখবাসীর অধিকার আন্দোলনের নেতা সোনাম ওয়াংচুকের মুক্তি চেয়ে তাঁর স্ত্রী’র দায়ের করা মামলার সোমবার শীর্ষ আদালতে শুনানি হবে। সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরুর আগের দিন রবিবার যোধপুর জেল থেকে এক বার্তায় এই আন্দোলনকারী নেতা গত মাসের হিংসার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং বলেছেন, সেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কারাগারে থাকতে প্রস্তুত।

বিচার না হওয়া পর্যন্ত জেলের থাকার শর্ত
রবিবার যোধপুর জেলে সোনাম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন লে এপেক্স বডির আইন উপদেষ্টা হাজী মুস্তফা ও তাঁর দাদা কে সেতাঙ দোরজি। এই সাক্ষাৎেই সোনাম ওয়াংচুক তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন।

বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি: গত ২৪ সেপ্টেম্বর লে’তে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছেন।

অহিংস পথে আন্দোলনের আহ্বান: তিনি লাদাখবাসীকে পূর্ণ রাজ্যের দাবিতে গান্ধীবাদী অহিংস পথে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, আন্দোলন যেন কোনওভাবেই হিংস্র রূপ না নেয়।

কেন NIA-তে গ্রেফতার, আজ জবাব দেবে কেন্দ্র
সোনাম ওয়াংচুকের মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে তাঁর স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কেন্দ্র সরকার আজ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে। সরকারি সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক লিখিতভাবে জানাতে পারে কেন এই নেতাকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (NSA) গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য:

সোনাম ওয়াংচুক লাদাখকে পূর্ণ রাজ্য ঘোষণার দাবিতে অনশন আন্দোলনের পাশাপাশি মানুষকে খেপিয়ে তুলেছিলেন।

পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলেও তিনি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে যান এবং অশান্তি থামাতে কোনও পদক্ষেপ করেননি।

তাঁর ডাকেই লাদাখের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ লে’তে জড়ো হয়েছিলেন।

দেশবিরোধী শক্তির সঙ্গে যোগ ও পাকিস্তানের প্রসঙ্গ
প্রশাসন সোনাম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও তুলেছে। চলতি বছরের গোড়ার দিকে তাঁর পাকিস্তান সফরকে সন্দেহের চোখে দেখছেন প্রশাসনিক কর্তারা। যদিও সোনামের দাবি, পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আলোচনায় অংশ নিতে তিনি ভারত সরকারের অনুমতি নিয়েই পাকিস্তান গিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি সরকারবিরোধী কোনো কথা বলেননি।

অন্যদিকে, সোনামের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের একটি পুরনো ছবি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইউনুসের প্রেষ সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ছবিটি বহু পুরনো এবং ইউনুসের সঙ্গে সোনামের কোনো বিশেষ সম্পর্ক বা যোগাযোগ নেই, একবারই তাঁদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছিল।