লাদাখে হিংসার দায় কার? সোনম ওয়াংচুককে দুষছে কেন্দ্র, পালটা ‘বলির পাঁঠা খোঁজার’ অভিযোগ

লাদাখের রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবিতে চলা আন্দোলনে হিংসার ঘটনার জন্য সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে দায়ী করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তাঁর প্ররোচনাতেই এই অশান্তি হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে সোনম ওয়াংচুক অভিযোগ করেছেন যে, সরকার সুকৌশলে তার ওপর দায় চাপিয়ে লাদাখের প্রকৃত সমস্যাগুলো এড়িয়ে যেতে চাইছে।

সোনমের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের
গতকাল (বুধবার) লাদাখের রাজধানী লেহ-তে বিক্ষোভ ও পুলিশের সংঘর্ষে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৮০ জন। এই ঘটনার পর সোনম ওয়াংচুক তাঁর অনশন ভাঙেন। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়:

বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর সংস্থা হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভ লার্নিং-এর বিরুদ্ধে এফসিআরএ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করে সিবিআই।

সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বৈদেশিক অনুদান গ্রহণের লাইসেন্স বাতিল করে।

এর জবাবে সোনম ওয়াংচুক বলেন, সরকার যদি তাঁকে কঠোর পাবলিক সেফটি আইনে (পিএসএ) গ্রেফতার করতে চায়, তবে তিনি তার জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমি যেটুকু বুঝতে পারছি, আমার বিরুদ্ধে পিএসএ-তে মামলা দায়ের করে দু’বছরের জন্য আমায় জেলে রাখার বন্দোবস্ত হচ্ছে। আমি এর জন্য প্রস্তুত। কিন্তু স্বাধীন সোনম ওয়াংচুক বাইরে থেকে যত না সমস্যা হচ্ছে, তার থেকে জেলে পাঠালে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।”

সোনমের পাশে কেডিএ, উঠছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সোনম ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়িয়েছে কার্গিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ)। তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দাতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে। কেডিএ-র কো-চেয়ারম্যান আসগর আলি কারবালাই বলেছেন, “পরিস্থিতিকে ঠিকমতো সামলানোর বদলে প্রশাসন বিশাল বাহিনী নিয়ে আসে। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। সরকার যা করেছে, তা আমাদের ক্ষতে নুন ছেটানোর মতো।” তিনি বলেন, এই হিংসার জন্য কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকই সমানভাবে দায়ী।

লেহ অ্যাপেক্স বডি এবং কেডিএ গত চার বছর ধরে রাজ্যের মর্যাদা, সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিলের অন্তর্ভুক্তিকরণ, পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং পৃথক লোকসভা আসনের দাবিতে আন্দোলন করছে। তাদের অভিযোগ, আলোচনার পরও কেন্দ্র কোনো সুরাহা করেনি।