ভারতের অন্যতম স্বর্গরাজ্য লাক্ষাদ্বীপ। প্রবাল প্রাচীর আর ফিরোজা রঙের সমুদ্রের টানে বহু পর্যটকই সেখানে যেতে চান, কিন্তু দীর্ঘ জাহাজযাত্রা কিংবা সীমিত বিমানের টিকিট এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে সেই ছবি এবার বদলাতে চলেছে। লাক্ষাদ্বীপে পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কেন্দ্রীয় সরকার এবার সি-প্লেন পরিষেবা চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার পর এই প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের দোরগোড়ায়।
কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞ প্যানেল লাক্ষাদ্বীপের ৬টি দ্বীপে ‘ওয়াটার অ্যারোড্রোম’ বা জল-বিমানবন্দর তৈরির জন্য ছাড়পত্রের সুপারিশ করেছে। প্রস্তাবিত এই নেটওয়ার্ক কোচির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে কাভারাত্তি, কালপেনি, কিলতান, কাদমাত, মিনিকয় এবং আগাত্তিকে। সি-প্লেন পরিষেবা চালু হলে পর্যটকদের যাতায়াতের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে। এতদিন যে দুর্গম পথ অতিক্রম করতে বহু সময় লাগত, সি-প্লেনের মাধ্যমে তা হবে কয়েক ঘণ্টার ব্যাপার।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লাক্ষাদ্বীপ সফরের পর থেকে এই দ্বীপপুঞ্জের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। মালদ্বীপের বিকল্প হিসেবে লাক্ষাদ্বীপকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে সরকার বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যেই দ্রুতগতিতে চলছে কাজ। ইতিমধ্যেই গত ১৩ মে একটি DHC6-400 টুইন অটার বিমান ব্যবহার করে কোচি ও লাক্ষাদ্বীপের মধ্যে সফল পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়েছে। বিমানটি প্রথমে আগাত্তিতে এবং পরে কাভারাত্তির লেগুনে মসৃণভাবে অবতরণ করে, যা ছিল ভারতের জলবিমান ইতিহাসের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
প্রস্তাবিত এই ‘জল-বিমানবন্দর’গুলো সাধারণ বিমানবন্দরের মতো বিশাল হবে না। এগুলোতে থাকবে ছোট যাত্রী টার্মিনাল, ভাসমান জেটি এবং ডকিং সুবিধা। প্রকল্পের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কাভারাত্তি দ্বীপে বার্ষিক প্রায় ১৬,০০০ পর্যটকের আনাগোনা বাড়বে। এছাড়াও আগাত্তি, কালপেনি এবং কিলতানে বছরে ৮,০০০-এর বেশি যাত্রীর যাতায়াত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সি-প্লেন পরিষেবা লাক্ষাদ্বীপের অর্থনীতি ও পর্যটন খাতের জন্য গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে। পর্যটকরা এখন প্রচলিত বিমানবন্দর বা ফেরির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সরাসরি লেগুনের নীল জলে নামতে পারবেন। এটি কেবল যাতায়াতের সময় কমাবে না, বরং দ্বীপপুঞ্জের প্রতিটি কোণকে পর্যটকদের কাছে সহজলভ্য করে তুলবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, খুব শীঘ্রই আকাশপথে সমুদ্রের বুকে ভেসে লাক্ষাদ্বীপ ভ্রমণের স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে।





