লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে পুরুষের নাম! কাটোয়ায় সরকারি টাকা লুটের দায়ে গ্রেফতার তৃণমূল প্রধান

রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে এবার উঠল ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ। সরাসরি পুরুষদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা ঢুকিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থেকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকা ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আলমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধানকে গ্রেফতার করেছে।

অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল পরিচালিত এই পঞ্চায়েতের প্রধান নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি এই প্রকল্পের টাকা বেআইনিভাবে সরিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে ধৃত ওই নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে এই চক্রের মূল হোতাদের অন্যতম, কাটোয়া-১ বিডিও অফিসের এক চুক্তিভিত্তিক কর্মী কার্তিক মণ্ডল। তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ।

বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত দুর্নীতি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, সরকারি এই প্রকল্পের টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের দেওয়ার বদলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে তা হাতিয়ে নেওয়া হতো। প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার নামে প্রতি উপভোক্তা পুরুষের কাছ থেকে মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হতো বলে বিজেপির তরফে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমনকি, যারা এই টাকা দিতে অপারগ ছিলেন, তাঁদের প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার হুমকিও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।

তৃণমূল নেতার এহেন কার্যকলাপ সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, সাধারণ গরিব মানুষের প্রাপ্য টাকা কীভাবে সরকারি দপ্তরের কর্মীকে সাথে নিয়ে তৃণমূল নেতারা নিজেদের পকেটে পুরছেন, এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া পঞ্চায়েত প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কার্তিক মণ্ডলের অবস্থান জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ধৃতের বিরুদ্ধে সরকারি টাকা তছরুপ এবং জালিয়াতির ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কাটোয়া থানার পুলিশ। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে এই দুর্নীতিতে আর কারা কারা জড়িত, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। বিডিও অফিসের কোনো উচ্চপদস্থ কর্তার যোগসাজশ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি তুলেছে এলাকাবাসী।