রেলের যাত্রায় বিশৃঙ্খলা করলেই কড়া জেল ও মোটা জরিমানা! নয়া আইন জারি করল পূর্ব রেল

প্রতিটি দিন পূর্ব রেলের ট্রেনে চড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছান। এই যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রেলওয়েকে সাধারণ মানুষের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্কর সাফ জানিয়েছেন, আন্দোলনের নামে ট্রেন আটকানো বা রেলের সম্পত্তিতে ভাঙচুর কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এবার থেকে এই ধরনের কাজ করলে আইনত কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে অপরাধীদের।

সদ্য কার্যকর হওয়া ‘জন বিশ্বাস আইন, ২০২৬’ এবং সংশোধিত রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এর আওতায় রেল চত্বরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, ট্রেনের ভিতর বা স্টেশনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, মদ্যপান বা অশ্লীল আচরণ করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন আইনের প্রধান দিকগুলি হলো:

উপদ্রব ও অশ্লীল আচরণ: ট্রেনের ভিতরে বা রেল চত্বরে মদ্যপ অবস্থায় থাকা, যাত্রীদের উত্যক্ত করা বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করলে ১,০০০ টাকা জরিমানা করা হবে। সতর্ক করার পরেও কেউ একই কাজ করলে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ৫,০০০ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

কর্তব্য পালনে বাধা: রেলকর্মীদের কাজকর্মে বাধা দিলে ১৪৬ নম্বর ধারায় জরিমানার পরিমাণ ও শাস্তির বিধান অনেক গুণ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে রেল কর্মীরা আরও নির্ভয়ে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন।

নিয়ম লঙ্ঘন: রেলের নির্ধারিত নিয়ম ভাঙলে এখন থেকে উপ-ধারা (১) অনুযায়ী ২,০০০ টাকা এবং উপ-ধারা (২) অনুযায়ী ১,০০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে আদালতের নির্দেশে অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

প্ল্যাটফর্মের ট্রাফিক ব্যবস্থা: রেল চত্বরের ভেতরে কোনো চালক বা কন্ডাক্টর যদি পুলিশের নির্দেশ অমান্য করেন বা যানজট সৃষ্টি করেন, তবে ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। আইন অমান্য করলে কারাদণ্ডেরও সংস্থান রাখা হয়েছে।

রেল পরিষেবা কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি দেশের জীবনরেখা। ট্রেনের চাকা থামিয়ে দেওয়া বা বিশৃঙ্খলা তৈরির ফলে হাজার হাজার যাত্রী, রোগী এবং কর্মজীবী মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। এই বিশৃঙ্খলা রুখে যাত্রীদের সফর নিরাপদ করতেই নতুন এই আইনি কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে। পূর্ব রেলের এই উদ্যোগ সাধারণ যাত্রীদের স্বস্তি দেবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।