পশুখাদ্যের আড়ালে ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা! ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে গরু পাচার, হাতেনাতে ধরল বিজেপি

জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে পশুখাদ্য বোঝাই পিকআপ ভ্যানের আড়ালে গরু পাচারের এক চাঞ্চল্যকর ছক বানচাল করে দিলেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। গরুগুলিকে ইনজেকশন দিয়ে অবশ করে পা বেঁধে নৃশংসভাবে পাচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। শুক্রবার গভীর রাতে ময়নাগুড়ির টিভি হাসপাতাল পাড়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার হওয়া ১০টি গরু ও ধৃত ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা।

জানা গিয়েছে, ময়নাগুড়িতে দীর্ঘ দিন ধরেই গরু পাচারের রমরমা চলছে বলে অভিযোগ আসছিল। এই খবর পাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছিলেন। শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিজেপি কর্মীরা রামশাই-ময়নাগুড়ি রাজসড়কের ধারে ওত পেতে অপেক্ষা করছিলেন। গভীর রাতে একটি পিকআপ ভ্যান আসতে দেখে সন্দেহবশত সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি শুরু করেন তাঁরা।

গাড়িটি দেখামাত্রই মনে হচ্ছিল সেটি পশুখাদ্য পরিবহন করছে। চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পশুখাদ্য নিয়ে যাওয়ার কথা জানায়। কিন্তু বিজেপি কর্মীদের সন্দেহ মেটেনি। গাড়ির ভিতরে তল্লাশি চালাতে গিয়েই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। দেখা যায়, পিকআপ ভ্যানটিতে দুটি আলাদা চেম্বার তৈরি করা হয়েছে। ওপরের চেম্বারে পশুখাদ্যের বস্তা সাজানো থাকলেও, নিচের চেম্বারে পা বাঁধা অবস্থায় গাদাগাদি করে রাখা ছিল ১০টি গরু। গরুগুলোর অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে পাচারের সুবিধার্থে সেগুলিকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে বা অচৈতন্য করে রাখা হয়েছিল।

এই ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়ার পরই গাড়িতে থাকা দুজন ব্যক্তির মধ্যে একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অন্যজনকে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা ধরে ফেলেন। ধৃতের নাম মহম্মদ কান্দু বলে জানা গিয়েছে। বিজেপির ময়নাগুড়ি টাউন ব্লক সভাপতি সঞ্জীব বর্ধন জানিয়েছেন, “আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই এই এলাকায় গরু পাচারের বিষয়টি নিয়ে ময়নাগুড়ি থানার আইসি-কে সতর্ক করেছিলাম। আমরা গোরক্ষার জন্য নিয়মিত নজর রাখছিলাম। গতকাল রাতে ভ্যানটি দেখে আমাদের সন্দেহ হয় এবং তল্লাশি চালাতেই এই পৈশাচিক ছবি ধরা পড়ে।”

সঞ্জীব বর্ধন আরও অভিযোগ করেন, মহম্মদ কান্দু দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিজেপি কর্মীরা গাড়ি-সহ সমস্ত গরু পুলিশের জিম্মায় দেন। ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবলচন্দ্র ঘোষ জানান, ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাদের খোঁজে তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকা জুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পশুপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।