“রেফারির ভুলে হাতছাড়া ট্রফি!”-বিশ্বকাপ ফাইনাল কি আবার হবে? জানুন পুরো ঘটনা

স্পেনের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয় এখনও মেনে নিতে পারছেন না আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। তাঁদের জোরালো দাবি, ম্যাচের দায়িত্বে থাকা রেফারির একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের জন্যই ট্রফি হাতছাড়া হয়েছে লিওনেল মেসিদের উত্তরসূরিদের। এই পরিস্থিতিতে ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবি উঠেছে এবং নতুন ম্যাচে যে ফলাফল হবে, সেটাই মেনে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এই দাবিতে ফিফা (FIFA)-র ওপর চাপ বাড়াতে আসরে নেমেছেন আর্জেন্টিনার এক বড় অংশের সমর্থক।

ফিফার কাছে চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ‘চেঞ্জ.অর্গ’ (Change.org) নামক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পিটিশন জমা দেওয়া শুরু করেছেন গিসেলা সানচেজ নামের এক আর্জেন্টিনীয় সমর্থক। ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক মানুষ এই পিটিশনে অংশ নেওয়ার পথে রয়েছেন। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, ম্যাচের স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ-এর একাধিক সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভুল ছিল এবং খেলার বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ওই রেফারিংয়ের সিদ্ধান্তই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে।

বেইন স্পোর্টসের প্রতিবেদন ও কোচ স্কালোনির মত

বিখ্যাত ক্রীড়া মাধ্যম ‘বেইইন স্পোর্টস’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিটিশনে গিসেলা সানচেজ দাবি করেছেন যে ম্যাচে এমন কিছু রেফারিং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা সরাসরি স্পেনকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে। আর এই পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তের কারণেই আর্জেন্টিনার ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি সমর্থকের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। পিটিশনে ফিফার কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারিংয়ের বিষয়ে একটি সম্পূর্ণ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করার পাশাপাশি ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবি জোরালো করা হয়েছে। সানচেজের বক্তব্য, এই আন্দোলন শুধু আর্জেন্টিনার জন্য নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের সামগ্রিক ভবিষ্যতের স্বার্থেই করা হচ্ছে। অবাক করার মতো বিষয় হল, এই অনলাইন পিটিশনে ইতিমধ্যেই ৬৭,৫০০-এরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন এবং এই সংখ্যাটি দ্রুত কয়েক লাখে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

তবে ম্যাচ চলাকালীন রেফারিং নিয়ে কোচের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ভিন্ন। ফাইনালে সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলির একটি ছিল আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজের করা একটি ট্যাকল। স্পেনের পাও কুবার্সির ওপর ওই ট্যাকলের জেরে এনজোকে লাল কার্ড দেখতে হয়েছিল, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কিন্তু দলের কোচ স্কালোনি সরাসরি রেফারিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে অস্বীকার করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, স্পেন ভালো খেলে জিতেছে এবং তাঁদের দল নিজেদের ভুলেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল করতে পারেনি।

ফিফা কি সত্যিই ফাইনাল ম্যাচ পুনরায় আয়োজন করতে পারে?

অনলাইন পিটিশনটিতে দ্রুত সমর্থন মিললেও ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর কোনো আইনি বা নিয়ামক ভিত্তি নেই। ‘চেঞ্জ.অর্গ’-এর মতো গণ-পিটিশন প্ল্যাটফর্মে করা আবেদন ফিফাকে কোনো সরকারি ম্যাচের ফলাফল বাতিল করতে কিংবা পুনরায় ম্যাচ আয়োজনের নির্দেশ দিতে একচিলতে বাধ্য করতে পারে না। আন্তর্জাতিক ফুটবলের আইন এবং ফিফার নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও জটিল শৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতি এবং নির্ধারিত আইনি পথ সম্পন্ন না হলে বিশ্বকাপ বা এই ধরনের বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের কোনো সাংবিধানিক সুযোগ থাকে না। ফলে অনলাইনে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও ফিফা এই দাবি মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।