মণিপুর হিংসায় বড় পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের! দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠনের কড়া নির্দেশ

মণিপুর হিংসার ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা ও অতিরিক্ত বিলম্ব এড়াতে এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে মণিপুর হিংসার মামলাগুলির দ্রুত বিচার বা ফাস্ট ট্র্যাক ট্রায়াল সম্পন্ন করার জন্য একটি বিশেষ আদালত (Special Court) গঠনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বর্তমান মামলার তদন্তে যেভাবে মাত্রাতিরিক্ত দেরি হচ্ছে, তাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে এখন থেকে প্রতিদিন নিয়মিত শুনানি বা দৈনিক শুনানির অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্তের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI), স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) এবং আদালত কর্তৃক নিযুক্ত মনিটর দত্তাত্রেয় পদসলিগিরকরের জমা দেওয়া নতুন স্ট্যাটাস রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার পরেই এই ঐতিহাসিক নির্দেশ জারি করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানিয়েছে যে, বর্তমান মামলার সামগ্রিক তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর খুব শীঘ্রই মণিপুর রাজ্য সরকার এবং মণিপুর ও গুवाहाটি হাইকোর্টের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা সাপেক্ষে এই বিশেষ আদালত গঠনের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা হবে। এর পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারকে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তদন্ত চলাকালীন তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং সিট-কে সমস্ত সম্ভাব্য উপায়ে পূর্ণ সহযোগিতা করা হয়, যাতে মাঠ পর্যায়ে কোনো প্রশাসনিক বা স্থানীয় বাধার মুখে পড়তে না হয়।
বৈধ ধর্মীয় কাঠামোয় কোনোভাবেই চালানো যাবে না বেআইনি দখলদারি!
আদালত এদিন অত্যন্ত কড়া ভাষায় নির্দেশ দিয়েছে যে, জাতিদাঙ্গায় দীর্ণ মণিপুর রাজ্যে যে সমস্ত নির্দিষ্ট স্থানে ইতিপূর্বে আইনসম্মত বা বৈধ ধর্মীয় কাঠামো বা প্রার্থনা গৃহগুলি বিদ্যমান ছিল, সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অবৈধ জবরদখল বা अतिक्रमण হতে দেওয়া যাবে না। বিচারপতি গীতা মিত্তল কমিটির জমা দেওয়া বিশদ প্রতিবেদন এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিওর ওপর গভীর আইনি পর্যালোচনা করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। বেঞ্চ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেছে যে, বিগত দিনে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক জাতিগত হিংসার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার পূর্বে যেখানেই বৈধ ধর্মীয় কাঠামো দাঁড়িয়ে ছিল, সেই সমস্ত জমিতে ভবিষ্যৎকালে নতুন করে কোনো জবরদখল বরদাস্ত করা হবে না।
শুনানি চলাকালীন আইনজীবী শাহরুক আলম আদালতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, হিংসার সময় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি মানুষের সর্বস্ব লুট করা হয়েছে, এমনকি সম্পত্তির আইনি मालिकाনা হকের মূল কাগজ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে পবিত্র গির্জা বা চার্চগুলিকে অবৈধভাবে জিম কিংবা অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী অত্যন্ত কঠোর সুরে স্পষ্ট করে দেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আর কোনো নতুন জবরদখল বা অবৈধ দখলদারি চালানো যাবে না, কারণ এটিই বর্তমানে আদালতের সবথেকে বড় উদ্বেগের বিষয়।
গীতা মিত্তল কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি করল শীর্ষ আদালত
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়েছেন যে, প্রাক্তন বিচারপতি গীতা মিত্তল কমিটির পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন ও দুটি ভিডিও আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই বিশেষ কমিটি এখন থেকে ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত করবে যে, যে সমস্ত জায়গায় পূর্বে বৈধ ধর্মীয় অবকাঠামো বা কাঠামো ছিল, সেই সমস্ত পবিত্র স্থানে যেন কোনো বেআইনি জবরদখল বা অবৈধ বসতি গড়ে না ওঠে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, এই সংবেদনশীল বিষয়গুলি কঠোরভাবে মনিটর করতে হবে। একই সঙ্গে, মণিপুরবাসীর পুনর্বাসন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দেখভাল করার জন্য গঠিত বিচারপতি গীতা মিত্তল কমিটির কার্যকালের মেয়াদ আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বৃদ্ধি করার ঘোষণা করেছে শীর্ষ আদালত।