রেড রোডে বিরাট সম্মান! স্বাধীনতা দিবসের সকালেই মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশ পদক পাচ্ছেন ১৩ জন আইপিএস

স্বাধীনতা দিবসের পবিত্র ও ঐতিহাসিক উদযাপনের প্রাক্কালে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের সমস্ত স্তরে খুশির হাওয়া। নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদান, অপরাধ দমন এবং সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ রাজ্যের একদল দুঁদে পুলিশকর্তার হাতে এবার তুলে দেওয়া হবে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশ পদক। আগামী ১৫ আগস্ট রেড রোডের জমজমাট মূল অনুষ্ঠানে রাজ্যের মোট ১৩ জন বিশিষ্ট আইপিএস অফিসারের হাতে এই বিশেষ সম্মান তুলে দেবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে নিষ্ঠা, সততা এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার জন্যই মূলত এই ঐতিহ্যবাহী পদক প্রদান করা হয়ে থাকে।

নবান্ন ও প্রশাসনিক সূত্রে বিশেষভাবে জানা গিয়েছে যে, দীর্ঘ ও কঠোর প্রশাসনিক মূল্যায়নের পরেই এবার মূলত দু’টি প্রধান বিভাগে এই পদক প্রদান করা হচ্ছে। যার মধ্যে প্রথমটি হলো ‘আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিস’ বা অসামান্য কাজের স্বীকৃতি এবং দ্বিতীয়টি হলো ‘কমেন্ডেবল সার্ভিস’ বা প্রশংসনীয় কাজের বিভাগ। কঠিন সময়ে অপরাধ দমন থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুনিপুণভাবে রক্ষা করা এবং সংকটের মুহূর্তে সবসময় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাচিত অফিসারদেরই এই মেডেলের জন্য একেবারে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

রাজ্য প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ‘আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিস’ বা অসামান্য কাজের জেরে এ বছর অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশ পদক পেতে চলেছেন রাজ্যের মোট ছ’জন তুখড় আইপিএস অফিসার। এই বিশেষ সম্মান প্রাপকদের মর্যাদাপূর্ণ তালিকার একেবারে প্রথমের দিকেই নাম রয়েছে আইপিএস অজয় কুমারের। এছাড়াও এই তালিকায় উজ্জ্বল উপস্থিতি রয়েছে পুলিশের আরেক অভিজ্ঞ আধিকারিক নীরজ কুমার সিংয়ের। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে, আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিস মেডেলের জন্য বিশেষভাবে মনোনীত হয়েছেন রাজ্য পুলিশের অত্যন্ত পরিচিত, নির্ভীক এবং দক্ষ মুখ হিসেবে দেশজুড়ে সুনাম অর্জনকারী আইপিএস দময়ন্তী সেন। তাঁর সঙ্গে সঙ্গেই এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিসের জন্য পদক পাচ্ছেন প্রখ্যাত আইপিএস জয়রামন।

এছাড়াও এই বিশিষ্ট সম্মানের তালিকায় অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে নাম রয়েছে প্রবীণ আধিকারিক প্রণব কুমার এবং তরুণ ও মেধাবী আইপিএস কুণাল আগরওয়ালেরও। নিজেদের সুদীর্ঘ কর্মজীবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বুদ্ধিমত্তা এবং অসাধারণ পেশাদার দক্ষতার পরিচয় দেওয়ার কারণেই রাজ্য প্রশাসন তাঁদের এই বিশেষ সম্মানের জন্য বেছে নিয়েছে।

অন্যদিকে, ‘কমেন্ডেবল সার্ভিস’ বা প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশ পদক লাভ করছেন মোট সাতজন আইপিএস অফিসার। এই মেডেল প্রাপকদের চমকপ্রদ ও দীর্ঘ তালিকার অন্যতম উল্লেখযোগ্য নাম হলো কংকর প্রসাদ বারুই। রাজ্য পুলিশের অন্দরে একজন দূরদর্শী ও দক্ষ আধিকারিক হিসেবে তাঁর যথেষ্ট সুখ্যাতি রয়েছে। তাঁর সঙ্গেই এবারের ১৫ আগস্টের স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে এই সম্মান পাচ্ছেন বিশিষ্ট পুলিশ আধিকারিক সুনীল কুমার যাদব এবং রাঠোর অমিতকুমার ভরত।

পাশাপাশি, বিগত দিনগুলিতে নিজেদের দায়িত্ব পালনকালে নানা প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পদক প্রাপকদের এই বিশেষ তালিকায় আরও নাম রয়েছে সূর্যপ্রতাপ যাদব পুষ্পার। এছাড়াও কমেন্ডেবল সার্ভিসের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশ পদক পাচ্ছেন অত্যন্ত কর্মদক্ষ অফিসার অংশুমান সাহা, শচীন মক্কর এবং ডক্টর অরবিন্দ কুমার আনন্দ। সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নিখুঁতভাবে বজায় রাখা এবং আমজনতার দোরগোড়ায় পুলিশি পরিষেবাকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অফিসারদের অসামান্য ভূমিকা সর্বমহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছরই স্বাধীনতা দিবসের দিন সকালে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ অফিসারদের এই বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করে থাকেন। নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর এবং রেড রোডের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ শুরু হওয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী নিজ হাতে এই পদকগুলি প্রদান করেন। মূলত পুলিশ কর্তাদের কাজের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ কর্মপ্রচেষ্টায় আরও বেশি উৎসাহ জোগাতেই এই মহান প্রথা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। প্রশাসনিক মহলের সুচিন্তিত মত অনুযায়ী, এই সম্মান কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত অফিসারের নয়, বরং গোটা পুলিশ বাহিনীর জন্যই অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়। শীর্ষকর্তারা যখন এই ধরনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে পুরস্কৃত হন, তখন স্বাভাবিকভাবেই নিচুতলার সাধারণ পুলিশ কর্মীরাও নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হন। কঠোর ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক মূল্যায়নের পরেই একমাত্র যোগ্য অফিসারদের এই সম্মান প্রদান করে থাকে রাজ্য সরকার।