নেতাজিকে অসম্মানের খেসারত! পুলিশের অ্যাকশন শুরু হতেই ক্ষমা চাইলেন কোচবিহারের দুই প্রভাবশালী

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ এবং পুলিশের লাগাতার ধরপাকড় শুরু হতেই অবশেষে সুর নরম করলেন রাজ্যসভার বিশিষ্ট বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে অবমাননা করার জেরে পুলিশের জালে বন্দি হওয়ার পর একইভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন নিশিগঞ্জের বিতর্কিত স্কুল শিক্ষক উত্তম বর্মনও। রাজ্যজুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে।
ঘটনার সুত্রপাত বেশ কিছুদিন আগে। কোচবিহারের একটি জনসভায় এবং বিভিন্ন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের কিছু মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধে। অভিযোগ ওঠে, ভারতীয় ইতিহাসের অন্যতম মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে অসম্মান করে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন তিনি। একই সঙ্গে নিশিগঞ্জের একটি স্কুলের শিক্ষক উত্তম বর্মনের বিরুদ্ধেও সোশাল মিডিয়ায় বা বিভিন্ন ভাষণে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়। আইনি পদক্ষেপের দাবি জোরালো হতে শুরু করে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেফতারির তোড়জোড় শুরু হতেই দুই অভিযুক্তের টনক নড়ে। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে পড়ে শেষরক্ষা হবে না বুঝতে পেরে কোণঠাসা হয়ে পড়েন তাঁরা। অবশেষে চাপের মুখে নতিস্বীকার করে রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেই ভিডিওতে তাঁকে প্রকাশ্যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে দেখা যায় এবং নিজের পূর্বের বক্তব্যের জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থী হন। একই সময়ে, পুলিশের হাতে পাকড়াও হওয়ার পর শিক্ষক উত্তম বর্মনও নিজের ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আইন নিজের পথে চলা শুরু করলেই যে বাঘের মতো প্রভাবশালীরাও বিড়াল হতে বাধ্য হয়, এই ঘটনা তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। জনগণের প্রবল প্রতিবাদ এবং পুলিশের কঠোর ভূমিকার ফলেই এই দুই প্রভাবশালী ব্যক্তিকে অবশেষে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হতে হয়েছে। প্রশাসনের এই সক্রিয় ভূমিকা সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়েছে এবং আইন অমান্যকারীদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।