রিলস বা ভিডিও বানিয়েই মিলবে ডিগ্রি! মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিনব পদক্ষেপে চমকে গেল গোটা বিশ্ব

বর্তমান প্রজন্মের বহু তরুণ-তরুণীর কাছে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর হওয়া এখন এক স্বপ্নের পেশা। এতদিন পর্যন্ত এই ক্ষেত্রটি মূলত শখ বা অভিজ্ঞতাভিত্তিক হিসেবে পরিচিত থাকলেও, এবার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অ্যাকাডেমিক রূপ দিতে এক অভিনব পদক্ষেপ নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়। দেশটির প্রখ্যাত ওয়াল্টার ক্রনকাইট স্কুল অব জার্নালিজম অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশন-এর অধীনে চালু করা হয়েছে কনটেন্ট ক্রিয়েশনের ওপর চার বছরের পূর্ণাঙ্গ ব্যাচেলর ডিগ্রি।
সাধারণ গণমাধ্যমের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বিশেষ কোর্সে পডকাস্টিং, স্টুডিও প্রোডাকশন এবং ক্যামেরার সামনে উপস্থাপনার মতো একাধিক ব্যবহারিক বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর আগে সাইরাকিউজ বা কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানে ছোটখাটো সার্টিফিকেট কোর্স বা মাইনর ডিগ্রি থাকলেও, পুরোদস্তুর স্নাতক ডিগ্রি হিসেবে এই পদক্ষেপ ক্রমবর্ধমান ‘ক্রিয়েটর ইকোনমি’-র আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে দারুণ নজর কাড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে, তেমনই বিভিন্ন মহল থেকে এর সমালোচনা ও বাস্তবমুখী প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনফ্লুয়েন্সারদের জীবন যতটা সহজ ও জাঁকজমকপূর্ণ মনে হয়, ভেতরের বাস্তবতা আসলে ততটাই জটিল ও কঠোর পরিশ্রমে ভরা। শুধু কনটেন্ট তৈরি করা নয়, অডিয়েন্স ধরে রাখা, ব্র্যান্ড পার্টনারশিপ সামলানো এবং নিয়মিত ব্যবসা বাড়ানো একটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ বিষয়। তাছাড়া, বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার ক্রিয়েটর ইকোনমিতে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব লেনদেন হলেও তার সিংহভাগ সরাসরি ক্রিয়েটরদের পকেটে যায় না। ফলে কেবল কলেজ ডিগ্রি থাকলেই কেউ রাতারাতি সফল বা ভাইরাল হবেন, এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।
পাশাপাশি এই কোর্সের খরচও যথেষ্ট চড়া। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে প্রায় ১২ হাজার ডলার এবং বহিরাগতদের ক্ষেত্রে পড়াশোনা ও থাকা-খাওয়ার মোট খরচ বছরে প্রায় ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে সফল ক্রিয়েটরদের একাংশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্থায়ী ক্যারিয়ার তৈরি না হলেও এই কোর্সের মাধ্যমে যোগাযোগ দক্ষতা, ব্র্যান্ডিং ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো যে সমস্ত প্রায়োগিক দিক শেখা যাবে, তা প্রচলিত চাকরির বাজারেও শিক্ষার্থীদের অনেকটাই এগিয়ে রাখবে। অবশ্য তাঁরা এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, ক্যামেরার সামনে সাবলীল হওয়া কিংবা নিজস্ব ব্যক্তিত্বের মতো প্রাকৃতিক গুণাবলি ক্লাসরুমে কখনোই শেখানো সম্ভব নয়।