নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডে বিস্ফোরক মন্ত্রী! প্রাক্তন মেয়রের বিরুদ্ধে কী কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি?

কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে নিউ মার্কেট চত্বরের একটি বহুতল হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এবার রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। পাঁচতলা ওই বাড়িতে একাধিক ছোট ছোট হোটেল, অত্যন্ত সংকীর্ণ যাতায়াতের রাস্তা, ফায়ার এক্সিটের অভাব এবং অগ্নিসুরক্ষার কোনো বালাই না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সিইএসসি (CESC) বিদ্যুৎ সংযোগ দিল এবং কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স মিলল—তা নিয়ে একগুচ্ছ গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। নাম না করে তিনি কাঠগড়ায় তুলেছেন পুরসভার আগের নেতৃত্ব ও প্রাক্তন মেয়রকে।

বিস্ফোরক অভিযোগ ও তদন্তের নির্দেশ

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মন্ত্রী জানান, গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে হোটেল ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠেছে এবং তৎকালীন জমানায় এর কোনো অডিটও করা হয়নি। বর্তমান সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমার জায়গায় আগে যিনি ছিলেন, উনি কী করেছেন? একটা এসির পারমিশন নিয়ে ১০টা চালানো হয়েছে।” প্রাক্তন পুরমন্ত্রী বা মেয়রের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার তদন্তে লালবাজারের গোয়েন্দা প্রধানের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের পাশাপাশি দমকল বিভাগ থেকেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হচ্ছে।

মৃতদের পরিচয় ও বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি

অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও, পরবর্তীতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মহম্মদ খালেদ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ১ জন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা হলেও বাকি ৮ জনই বাংলাদেশের নাগরিক বলে অনুমান করা হচ্ছে। গিরিডি থেকে কাজের সন্ধানে আসা এক শ্রমিকের ঝলসানো দেহ শনাক্ত করেছে তাঁর পরিবার। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর হোটেল মালিকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।