রিপোল নয়, ভোট বাতিলও হতে পারে! বাংলায় ছাপ্পা রুখতে কমিশনের কড়া হুঁশিয়ারি, চাপে শাসক-বিরোধী

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কলঙ্কমুক্ত করতে এবার কোমর বেঁধে নামছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার এমন কিছু কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে, যা রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে কার্যত নজিরবিহীন। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা—ভোট চলাকালীন যদি কোনও বুথের ওয়েব ক্যামেরা বিকল হয় বা কারচুপির চেষ্টা চলে, তবে সেই বুথে সরাসরি পুনর্নির্বাচন বা ‘রিপোল’-এর নির্দেশ দেওয়া হবে।

ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন সাংবাদিক সম্মেলন করে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এবার বুথে বুথে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু ওয়েবকাস্টিং নয়, কমিশন সূত্রের খবর, বুথ দখল, ইভিএমে যান্ত্রিক ত্রুটি, ভোটারদের বাধা দান, কিংবা পোলিং অফিসারদের ওপর চাপ সৃষ্টির মতো অভিযোগ প্রমাণ হলেই সেই বুথে পুনরায় ভোট নেওয়া হবে। এই রিপোল প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই দুই দফার নির্বাচনের মধ্যে বেশ কয়েকদিনের ব্যবধান রাখা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

তবে কমিশনের সবচেয়ে বড় ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ অন্য জায়গায়। সূত্রের খবর, যদি কোনও নির্দিষ্ট কেন্দ্রে একাধিকবার রিপোল করার পরেও সুষ্ঠু ও নিরুপদ্রব ভোট করানো সম্ভব না হয়, তবে সেই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হতে পারে। অর্থাৎ, অশান্তি বা কারচুপির চেষ্টা করলে সেই কেন্দ্রের ফলই ঘোষণা করবে না কমিশন। স্ক্রুটিনির পর এক দিন সময় নিয়ে রিপোল ঘোষণা করার যে এক্তিয়ার কমিশনের হাতে রয়েছে, তাকে এবার চূড়ান্তভাবে প্রয়োগ করতে চলেছে তারা। এই কড়া অবস্থানের ফলে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য রুখে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলেই আশা করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy