বাংলার সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন যুগের সূচনা হলো। এবার থেকে স্রেফ রোগীর নিঃশ্বাস বিশ্লেষণ করে কিডনির জটিল রোগ শনাক্ত করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে শুরু হওয়া এই অভিনব প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই চিকিৎসক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
কীভাবে কাজ করবে এই AI ডিভাইস?
এই অত্যাধুনিক যন্ত্রটি রোগীর নিঃশ্বাস থেকে নির্গত ‘ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ড’ (VOC) শনাক্ত করে। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে ইউরিয়া ও নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য জমতে থাকে। এই বর্জ্য নিঃশ্বাসের মাধ্যমে অ্যামোনিয়া বা ট্রাইমেথাইলামাইন হিসেবে বাইরে আসে। যন্ত্রটি স্রেফ সেই গন্ধ বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করেই জানিয়ে দেবে কিডনির অবস্থা।
আইআইটি খড়গপুরের কামাল
এই যুগান্তকারী প্রকল্পটিতে প্রযুক্তিগত সাহায্য জুগিয়েছে আইআইটি খড়গপুর (IIT Kharagpur)। অধ্যাপক তরুণকান্তি ভট্টাচার্য এবং শ্যামল দাস মণ্ডলের নিরলস গবেষণার ফসল এই ডিভাইসটি। ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ জন রোগীর ওপর এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সফল হয়েছে।
রোগীর কী লাভ?
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের নেফ্রোলজি বিভাগের চিকিৎসক সৌগত দাশগুপ্ত জানান:
দ্রুত রোগ নির্ণয়: প্রাথমিক স্তরেই কিডনির সমস্যা ধরা সম্ভব হবে।
সাশ্রয়ী ও যন্ত্রণাহীন: রক্ত পরীক্ষার খরচ কমবে এবং সুচ ফোটানোর ঝামেলা থাকবে না।
সহজ পদ্ধতি: খুব দ্রুত রিপোর্ট পাওয়া যাবে, ফলে চিকিৎসাও শুরু করা যাবে দ্রুত।
জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি
দিল্লিতে আয়োজিত একটি বিশেষ সম্মেলনে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের এই উদ্যোগ ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বাংলার প্রতিটি কোণায় পৌঁছে দিতে পারলে কিডনি রোগের চিকিৎসায় আমূল পরিবর্তন আসবে।





