বড় স্বীকৃতি! লালগোলাতেই লেখা হয়েছিল ‘বন্দেমাতরম’, কেন্দ্র সিলমোহর দিতেই গর্বে ভাসছে বাংলা

দেশজুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে জাতীয় গান ‘বন্দেমাতরম’-এর সার্ধ শতবর্ষ। এই মাহেন্দ্রক্ষণে এক ঐতিহাসিক সত্যের সরকারি স্বীকৃতি মিলল। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের সাম্প্রতিক উদ্যোগে দিল্লির দ্বারকায় আয়োজিত ‘লং লিভ ডেমোক্রেসি’ অনুষ্ঠানে ‘বন্দেমাতরম’-এর প্রকৃত উৎসভূমি হিসেবে মুর্শিদাবাদের লালগোলাকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই ঘোষণায় আনন্দিত ইতিহাসপ্রেমী থেকে আপামর বাঙালি।

কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের প্রকাশিত পোস্টারে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লালগোলাতেই বসে অমর এই শব্দগুচ্ছ রচনা করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ১৮৮২ সালে তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এর অন্তর্ভুক্ত হয়। ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খল ভাঙতে এই গানটি অগ্নিকন্যা ও বিপ্লবীদের কাছে মন্ত্রের মতো কাজ করেছে। যদিও রচনার স্থান ও কাল নিয়ে দীর্ঘকাল ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ ছিল, তবে কেন্দ্রীয় স্বীকৃতি সেই বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ১৮৭৩ সালে বহরমপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ব্রিটিশ কর্নেল ডাফিনের সঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্রের সংঘাত তৈরি হয়। ব্রিটিশ অফিসারের হেনস্থার শিকার হয়ে বঙ্কিমচন্দ্র আইনি লড়াইয়ে নামেন। সেই উত্তাল সময়ে, লালগোলার তৎকালীন রাজা রাও যোগীন্দ্র নারায়ণ রায়ের আমন্ত্রণে বঙ্কিমচন্দ্র লালগোলার রাজবাড়ির অতিথি নিবাসে আশ্রয় নেন। লালগোলার আধ্যাত্মিক ও মন্দির পরিবেষ্টিত শান্ত পরিবেশে বসেই তিনি ‘বন্দেমাতরম্ সুজলাং সুফলাং…’ অংশটি রচনা করেছিলেন বলে তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। মামলার সময় লালগোলার মহারাজা তাঁর প্রধান সাক্ষীও ছিলেন।

গবেষক সুমন কুমার মিত্র, যিনি ‘বন্দেমাতরম ও আনন্দমঠ-এর উৎসভূমি লালগোলা’ গ্রন্থের রচয়িতা, এই সরকারি স্বীকৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ম্যালেরিয়ায় অসুস্থ থাকাকালীন বঙ্কিমচন্দ্র লালগোলার কালীমন্দির চত্বরের দোতলার একটি ঘরে বসেই এই গান রচনা করেছিলেন। বর্তমানে সেই কক্ষের অবস্থা জরাজীর্ণ হলেও, ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে লালগোলা। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের এই মান্যতা তাঁর দীর্ঘ দশকের গবেষণাকে এক শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করল। দেশাত্মবোধের প্রতীক এই গানের প্রকৃত জন্মস্থানের স্বীকৃতি বাঙালির কাছে এক বড় আবেগ ও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।