রামমন্দিরের অনুদান নিয়ে মেগা কেলেঙ্কারি! ৩,৫০০ কোটির হিসাবে বড় ফাঁক, নড়েচড়ে বসল যোগী সরকার

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব মেলাতে গিয়েই তোলপাড় গোটা দেশ। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—কীভাবে কোটি কোটি টাকার হিসাবে গরমিল হলো? চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই আর্থিক অব্যবস্থাপনার আশঙ্কা কিন্তু নতুন নয়, এর বীজ বোনা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় চার বছর আগেই। ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর ২০২০ সালের একটি অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টে তখনই আর্থিক ব্যবস্থাপনার গুরুতর গলদ ও ত্রুটির কথা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছিল।

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে জমা দেওয়া ওই অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টে অডিটররা ট্রাস্টের কাজকর্মের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) তৈরির কড়া সুপারিশ করেছিলেন। অডিট সংস্থার পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রতিটি আর্থিক লেনদেন, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যদি সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন তৈরি না হয়, তবে আগামী দিনে ট্রাস্টের জবাবদিহি নিশ্চিত করা অসম্ভব হবে। কিন্তু অভিযোগ, সেই সতর্কবার্তাকে কার্যত হিমাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর গঠিত এই ট্রাস্টের তহবিলে গত কয়েক বছরে নগদ অনুদান হিসেবে জমা পড়েছে প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা! এর বাইরে সোনা, রুপো ও হিরের গয়নার পাহাড় জমেছে ট্রাস্টের সিন্দুকে। অডিট রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, এই বিপুল অর্থের জন্য কোনো ‘সিস্টেমেটিক রেকর্ড’ বা আধুনিক ডেটাবেস রাখা হচ্ছে না। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয়, বড় অঙ্কের লেনদেন ভেরিফিকেশনের জন্য কোনো দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের যাচাই ব্যবস্থা নেই। ফলে তথ্য বিকৃতি বা আর্থিক অনিয়মের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

শুধু অর্থই নয়, ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামোয় চরম অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল রিপোর্টে। হাজার হাজার কর্মী থাকা সত্ত্বেও কোনো পূর্ণাঙ্গ হিউম্যান রিসোর্স (HR) বিভাগ ছিল না। এছাড়া, আইটি পরিকাঠামো ও ডিজিটাল সিকিউরিটিতেও ছিল মারাত্মক দুর্বলতা। কোনো সুস্পষ্ট নীতি ছাড়াই অতি গোপনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, যা সাইবার হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছিল। ভক্তদের দেওয়া সোনা-রুপোর সামগ্রী নিয়ে স্টক রেজিস্টার ও আলাদা হিসাবপদ্ধতির সুপারিশ করলেও, ট্রাস্টের শীর্ষ কর্তারা সেই পেশাদার পরামর্শের দিকে ফিরেও তাকাননি বলে অভিযোগ।

এই বিস্তর গরমিল সামনে আসতেই উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের ‘সিট’ (SIT) গঠন করেছে। গতকাল মঙ্গলবার এসআইটি তাদের প্রাথমিক রিপোর্টও জমা দিয়েছে যোগী সরকারের কাছে। ট্রাস্টের এক সূত্রের আক্ষেপ, যদি চার বছর আগে অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে আজ কোটি কোটি মানুষের আবেগের এই মন্দিরের আর্থিক সততা নিয়ে এমন কলঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হতো না। এখন সিটের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে, এই ৩,৫০০ কোটির গোলমালে আদতে কতটা গাফিলতি বা দুর্নীতি ছিল এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে।