রাতের অন্ধকারেও থামছে না বোমা উদ্ধার! জেলার ১০টি থানাকে নিশানা, বিশেষ নম্বরে ফোন পেয়েই জালে দুষ্কৃতীরা

জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বোমার কারবার রুখতে মুর্শিদাবাদ পুলিশ এক নজিরবিহীন ‘অ্যান্টি-বম্ব এক্সারসাইজ’ শুরু করেছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে ড্রোন উড়িয়ে এবং পুলিশ কুকুর ব্যবহার করে লাগাতার তল্লাশি চলছে। ফলস্বরূপ, গত ৩৬ ঘণ্টায় জেলা জুড়ে প্রায় ১৪৮টি বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ ও সিআইডি-র বম্ব ডিসপোজার ইউনিট।
অভিযানের ব্যাপ্তি ও পদ্ধতি: জেলা পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে সীমান্তবর্তী হরিহরপাড়া, রেজিনগর, ইসলামপুর, সাগরপাড়া, খড়গ্রাম, ডোমকল, মুর্শিদাবাদ, রানিনগর, বড়ঞা এবং সালার থানা এলাকা থেকে বোমা উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, জেলাজুড়ে এই ‘অ্যান্টি-বম্ব এক্সারসাইজ’ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশেষ ফোন নম্বরে (9144455518) সাধারণ মানুষ তথ্য দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
স্থানভিত্তিক উদ্ধার ও গ্রেফতার:
রেজিনগর, ডোমকল, সালার, বড়ঞা ও রানিনগর: বৃহস্পতিবার এই ৫টি থানা এলাকা থেকে মোট ৪৮টি বোমা উদ্ধার হয়েছে। রেজিনগরের ছেতিয়ানি ঘোষপাড়া থেকে দু’টি জারে রাখা ১২টি সকেট বোমা উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
হরিহরপাড়া: সদানন্দপুর, নাজিরপুর, কুমড়িপুর ও শঙ্করপুর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১৪টি বোমা, চারটি বোমা তৈরির পাইপ ও ৫০০ গ্রাম বিস্ফোরক পদার্থ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
খড়গ্রাম ও মুর্শিদাবাদ: জেলা পুলিশের বিশেষ নম্বরে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খড়গ্রামের খেশোর ভেড়াখালি ফিল্ডের কাছ থেকে পাঁচটি তাজা সুতলি বোমা এবং মুর্শিদাবাদ থানার গুধিয়া মাঝপাড়ায় এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ৬টি সকেট বোমা উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় রফিকুল শেখ ও আজমল শেখ নামে দু’জনকে আটক/গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডোমকল মহকুমা: ডোমকল, ইসলামপুর এবং রানিনগর থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে রাতভর অভিযানে মোট ৪৫টি বোমা উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামপুরের হেরামপুর নতুনপাড়া থেকে ১১টি বোমা উদ্ধার হয়।
পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন, জেলায় বোমার বিরুদ্ধে এই অভিযান লাগাতার চলবে এবং দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।