‘জন গণ মন’ না ‘বন্দে মাতরম’! কর্ণাটকে বিজেপি সাংসদের মন্তব্যে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ, রেগে আগুন প্রিয়াঙ্ক খড়্গে

কর্ণাটকে জাতীয় সঙ্গীত (National Anthem) ‘জন গণ মন’ নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ বিশ্বেশ্বর হেগড়ে কাগেরি। তাঁর দাবি, দেশের জাতীয় সঙ্গীত মূলত “একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তাকে স্বাগত জানানোর জন্য লেখা হয়েছিল।”
বিজেপি সাংসদের বিতর্কিত মন্তব্য: বুধবার হন্নাভরে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাগেরি বলেন, “আমি ইতিহাস খুঁড়ে দেখতে চাই না। তখন ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীত করার দাবি উঠেছিল। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষেরা সিদ্ধান্ত নেন ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘জন গণ মন’— দুটোই থাকবে। ‘জন গণ মন’ তখন রচিত হয়েছিল ব্রিটিশ অফিসারকে স্বাগত জানানোর জন্য।”
তিনি ‘বন্দে মাতরম’-এর অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, এটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চিরকালই অনুপ্রেরণার উৎস, তাই এই দেড়শো বছর পূর্তিতে এটিকে স্কুল, কলেজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।
কংগ্রেসের তীব্র প্রতিক্রিয়া: বিজেপি সাংসদের এই মন্তব্যের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্নাটকের মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্ক খড়্গে। এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ তিনি কাগেরিকে কটাক্ষ করে লেখেন, “পুরোপুরি আজেবাজে কথা! বিজেপি যে আরএসএস-এর হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির ইতিহাস পড়ে, সেটাই প্রমাণ হলো।”
খড়্গে ইতিহাসে স্মরণ করিয়ে দেন যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১১ সালে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ কবিতাটি লেখেন, যার প্রথম স্তবকই পরে ‘জন গণ মন’ হয়। এই গানটি প্রথম গাওয়া হয় ১৯১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর কলকাতায় অনুষ্ঠিত ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে— কোনও রাজাকে সম্মান জানাতে নয়। তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং ১৯৩৭ ও ১৯৩৯ সালে পরিষ্কার করে বলেছেন, গানটি ভারতের ভাগ্যবিধাতাকে উদ্দেশ করে লেখা, কোনও জর্জ পঞ্চম বা ষষ্ঠকে নিয়ে নয়।
খড়্গে বিজেপি সাংসদের মন্তব্যে আরও কটাক্ষ করে বলেন, আরএসএস-এর দীর্ঘ ঐতিহ্যই হল সংবিধান, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতকে অসম্মান করা।
উল্লেখ্য, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৫ সালে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি রচনা করেন, যা ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে এবং ২০২৫ সালে তার ১৫০ বছর পূর্ণ হবে।