ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গ। মঙ্গলবার রাতে কোচবিহারের তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বলরামপুর চৌপথীতে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিহাতে ময়দানে নামতে হলো পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।
কী নিয়ে বিবাদ?
ঘটনার সূত্রপাত বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক তথা বর্তমান প্রার্থী মালতী রাভার নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে। বিজেপির অভিযোগ, মালতী রাভা যখন তাঁর সমর্থকদের নিয়ে প্রচার চালাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তৃণমূল কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাতে বাধা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি এবং পরে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আক্রান্ত বিজেপি কর্মী, হাসপাতালে ভর্তি
বিজেপির দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের এক কর্মীকে বেধড়ক মারধর করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কর্মীকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রার্থী মালতী রাভা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “তৃণমূল ভয় পেয়েছে। তাই আমাদের প্রচারে হামলা চালিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এভাবে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।”
অভিযোগ উড়িয়ে দিল তৃণমূল
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসক দল। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি হার নিশ্চিত জেনে এখন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এলাকায় অশান্তি ছড়াতে চাইছে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই এই নাটক করা হচ্ছে বলে তাঁদের পাল্টা অভিযোগ।
থানা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল
খবর পেয়েই তুফানগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ এতটাই আতঙ্কিত যে, সন্ধ্যার পর বলরামপুর চৌপথী এলাকা কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়ে। ভোটের আগে তুফানগঞ্জের এই ‘তুফানি’ মেজাজ যে প্রশাসনকে বেশ চাপে রাখবে, তা বলাই বাহুল্য।





