ভোট যত এগোচ্ছে, ততই সুর চড়াচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার কাঁচডিহা মাঠের জনসভা থেকে তিনি দলীয় কর্মীদের দিলেন এক বিশেষ রণকৌশল। তাঁর আশঙ্কা, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে তৃণমূলের বুথ এজেন্টদের গ্রেফতার করতে পারে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থা। আর সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই ‘প্যারালাল মেশিনারি’ বা বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি রাখার নির্দেশ দিলেন নেত্রী।
বুথ দখলে নয়া ব্লু-প্রিন্ট: মমতা এদিন অভিযোগ করেন, নিচুতলার পুলিশ অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তৃণমূল এজেন্টদের আগেভাগে সরিয়ে দেওয়া হয়। কর্মীদের অভয় দিয়ে তিনি বলেন, “একজনকে অ্যারেস্ট করলে আর একজন বসবেন। লড়ে যেতে হবে। বাংলাকে কাবু করা এত সহজ নয়। এবার বাংলায় বিজেপির খেলা শেষ করে পগার পার করে দেওয়া হবে।”
SIR ও এনআরসি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি: এদিনও তাঁর নিশানায় ছিল নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির ‘SIR’ (অ্যাডজুডিকেশন ভোটার) বিতর্ক। মমতা দাবি করেন, তাঁর লড়াইয়ের ফলেই ৩২ লক্ষ নতুন ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পেরেছেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি, “তৃণমূল সরকার গড়লে সবার নাম স্থায়ীভাবে তোলা হবে। ডিলিমিটেশনের নামে বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত চলছে, এনআরসি করতে দেব না।”
যোগী ও বুলডোজার নীতিকে আক্রমণ: রবিবার বঙ্গে এসে যোগী আদিত্যনাথ যে বুলডোজার নীতির সপক্ষে সওয়াল করেছিলেন, তার পাল্টায় মমতা সাফ জানিয়ে দিলেন, “উত্তরপ্রদেশের বুলডোজার বাংলায় চলবে না।”
বদলে গেল স্লোগান— ‘বদলা নিন’: ২০১১ সালের সেই বিখ্যাত ‘বদলা নয় বদল চাই’ স্লোগান থেকে সরে এসে এবার সরাসরি ‘বদলা’র ডাক দিলেন মমতা। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই বদলা হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রের বাক্সে একটা একটা ভোট দিয়ে এবার বদলা নিতে হবে।”
জনমোহিনী ঘোষণা ও বিজেপির ‘কালো টাকা’: ভোটের মুখে নতুন চমক হিসেবে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করলেন মমতা। যেখানে ব্লক ও টাউনে ডাক্তার-নার্সরা গিয়ে বিনা পয়সায় চিকিৎসা দেবেন। পাশাপাশি ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “বিজেপি চুরির কালো টাকা দিতে পারে, তা নিলে চরিত্র নষ্ট হবে।” তাঁর কটাক্ষ, বিজেপির মিটিংয়ে ৫০০ টাকা দিয়ে আর রেলে করে লোক ভাড়া করে আনতে হয়, যা তৃণমূলের লাগে না।
পিংলার সভা থেকে মমতার এই ‘প্যারালাল মেশিনারি’র দাওয়াই ভোটের দিন মেদিনীপুরের মাটিতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।





