রাতভর জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি! দুর্গাপুর কাণ্ডে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪, মূল অভিযুক্তকে ধরতে প্রযুক্তির সাহায্য পুলিশের

দুর্গাপুর বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী গণধর্ষণকাণ্ডে এবার চতুর্থ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম সম্রাট ওরফে নাসিরউদ্দিন, যিনি দুর্গাপুর নগর নিগমের একজন অস্থায়ী কর্মী। এই গ্রেফতারির ফলে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪।
কীভাবে ধরা পড়ল নাসিরউদ্দিন?
ধৃত নাসিরউদ্দিন দুর্গাপুর থানার বিজড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় প্রথম তিনজনকে গ্রেফতারের পরই নাসিরকে আটক করা হয়েছিল। রবিবার রাতে দীর্ঘ এবং টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর সে অপরাধে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে। এরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার তাকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও এক অভিযুক্ত, শেখ শফিকুলের খোঁজে জোরদার তল্লাশি শুরু হয়েছে।
উত্তাল রাজ্য, পুলিশি পদক্ষেপ
শুক্রবার গভীর রাতে শহরের পরাণগঞ্জের জঙ্গলে দ্বিতীয় বর্ষের এক চিকিৎসক পড়ুয়াকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই শনিবার সকাল থেকে রাজ্য জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। বিরোধী দল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ দ্রুত দোষীদের গ্রেফতারির দাবিতে সোচ্চার হন।
তদন্তে নেমে পুলিশ মোবাইলের টাওয়ার লোকেশনের সাহায্য নিয়ে অভিযুক্তদের সন্ধান পায়। এর আগে গ্রেফতার হয়েছিল – অপু বাউরি, শেখ ফিরদৌস এবং শেখ রিয়াজউদ্দিন। রবিবার তাদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে থাকার নির্দেশ দেন।
চতুর্থ অভিযুক্ত নাসিরউদ্দিনের গ্রেফতারি প্রমাণ করছে, জনগণের প্রতিবাদের মুখে পুলিশ দ্রুত গতিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে মূল অভিযুক্তদের একজন এখনও ফেরারি থাকায় পুলিশি তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।