“ফুলশয্যার রাতে আরশোলা খাওয়ার দৃশ্য!”-‘কমলা নিবাস’-এর দৃশ্য দেখে ছিঃ ছিঃ রব নেটপাড়ায়

বিনোদন জগতের টিআরপি-র ইঁদুর দৌড়ে মাঝে মাঝেই এমন সব দৃশ্য পর্দায় উঠে আসে, যা যুক্তির তোয়াক্কা করে না। সম্প্রতি ‘কমলা নিবাস’ ধারাবাহিকের এমনই একটি দৃশ্যকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফুলশয্যার রাতে একটি আরশোলা চিবিয়ে খাওয়ার দৃশ্য দেখে দর্শকদের মধ্যে তীব্র অস্বস্তি ও বিরক্তি দেখা দিয়েছে।
ধারাবাহিকের সাম্প্রতিক একটি প্রোমোতে দেখা যায়, ‘ঝিনুক’ ও ‘সম্রাট’-এর ফুলশয্যার রাতে হঠাৎই একটি আরশোলা উড়ে আসে। স্ত্রী ঝিনুক ভয়ে কুঁকড়ে গেলেও, স্বামী সম্রাটের প্রতিক্রিয়া ছিল চমকপ্রদ—অথবা বলা ভালো, ভয়ংকর। চিত্রনাট্য অনুযায়ী, সম্রাট মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বা ‘সাইকো’ ঘরানার এক চরিত্র। সেই ‘উগ্র ও বিকৃত’ ভালোবাসা প্রমাণ করতে সে তৎক্ষণাৎ আরশোলাটিকে ধরে দুধের গ্লাসে ডুবিয়ে সোজা মুখে পুরে দেয় এবং চিবিয়ে খেয়ে ফেলে।
এই দৃশ্যটি ভাইরাল হতেই নেটপাড়ায় কটাক্ষ ও নিন্দার বন্যা বয়ে গেছে। কেউ একে ‘অস্বস্তিকর’ বলেছেন, তো কেউ আবার রসিকতা করে লিখেছেন, “বেঁচে থাকতে আর কত কী দেখতে হবে!” কারো কারো মতে, এই ধরনের দৃশ্য পরিবারের ছোটদের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। চিত্রনাট্যের এই ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে একজন দর্শক লিখেছেন, “এটা কেমন সিরিয়াল! সাইকো চিন্তাভাবনা ছড়ানো হচ্ছে।”
চরিত্রের প্রয়োজনে এই অদ্ভুত দৃশ্যটি করার পর তীব্র ট্রোলিংয়ের মুখে পড়েছেন অভিনেতা ধ্রুবজ্যোতি সরকার। দর্শকদের অস্বস্তিকে গুরুত্ব দিয়ে অভিনেতা জানান, “এত বেশি ভাবলে অভিনয় করা সম্ভব ছিল না।” পেশাদার অভিনেতা হিসেবে তিনি শুটিংয়ের সময় অতিরিক্ত চিন্তা না করে চরিত্রটির ভেতরের হিংস্র ভাবটিকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, ওই দৃশ্যে চরিত্রের ‘সাইকো’ রূপটি তুলে ধরাই ছিল নির্মাতাদের লক্ষ্য।
টিআরপি বনাম রুচি পর্দায় বৈচিত্র্য আনার নামে বা টিআরপি বাড়াতে গিয়ে মাঝে মাঝেই কাল্পনিক ও অবাস্তব দৃশ্যের অবতারণা করা হয়। কিন্তু এই ধরনের দৃশ্য কি আদৌ দর্শকদের মন জয় করতে পারছে? নাকি তা হিতে বিপরীত হয়ে বিনোদন জগতের গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দিচ্ছে—তা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে।