৪ মে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর বাংলায় শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। ৯ মে শপথ নেওয়ার পর আজ, সোমবার নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম বৈঠকেই রাজ্যের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ণ নিয়ে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। নির্বাচনের কাজে যুক্ত কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সকলকেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী।
শহিদ পরিবারদের পাশে নতুন সরকার বৈঠকের শুরুতেই শুভেন্দু অধিকারী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিজেপির সেই ৩২১ জন কর্মীকে, যাঁরা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ঘোষণা করেন, “এই শহিদ পরিবারদের প্রতি সরকার দায়বদ্ধ। হত্যার বিচার হবেই, পাশাপাশি এই পরিবারগুলোর যাবতীয় দায়িত্ব এখন থেকে রাজ্য সরকারের।”
সীমান্ত সুরক্ষা ও বিএসএফ-কে জমি দেশের এবং রাজ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন শুভেন্দু। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিএসএফ-এর (BSF) জমি জট কাটাতে এদিন অনুমোদন দিয়েছে ক্যাবিনেট। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। আজ থেকেই সেই কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ‘ফুল প্যাকেজ’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় যে সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বাংলার মানুষ বঞ্চিত ছিলেন, তা ফেরানোর ঘোষণা করলেন শুভেন্দু।
আয়ুষ্মান ভারত: রাজ্যে অবিলম্বে চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করতে স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য প্রকল্প: উজ্জ্বলা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, বিশ্বকর্মা যোজনাসহ মোদী সরকারের সমস্ত প্রকল্প এখন থেকে বাংলায় কার্যকর হবে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা এক ধাক্কায় ৫ বছর বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি, এখন থেকে রাজ্যের আইএএস (IAS) ও আইপিএস (IPS) অফিসাররা অন্য রাজ্যের মতো কেন্দ্রীয় ট্রেনিংয়ে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
চালু হলো ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও বড় বদল আনলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, বাংলায় এতদিন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর করা হয়নি। আজ থেকেই পশ্চিমবঙ্গে বি এন এস মেনে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও ২০২৫ সালের জনগণনা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিএ নিয়ে মিলল বড় সংকেত এদিনের বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী সোমবার ফের মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং নতুন বেতন কমিশন নিয়ে সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ফলে আগামী সোমবার নবান্নের দিকেই তাকিয়ে থাকবেন লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।
রাজ্যের গদি দখলের পর প্রথম কর্মদিবসেই শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। সুশাসন এবং কেন্দ্রীয় নীতির মিশেলে বাংলা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।





