রাজস্থানে স্কুল ছাদ ধসে ৭ পড়ুয়ার মৃত্যু! শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর, দ্রুত তদন্তের নির্দেশ

রাজস্থানের ঝালাওয়ার জেলায় একটি সরকারি স্কুলের ছাদ ধসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এখনও পর্যন্ত ৭ জন নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ পিপলোদি সরকারি স্কুলে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই শুরু হওয়া উদ্ধারকাজে একে একে ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করা হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতর (PMO) গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা ও প্রশাসনের তৎপরতা
প্রধানমন্ত্রীর দফতর পিএমও (PMO) এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছে, “এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। এই কঠিন সময়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলির প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। প্রশাসন সর্বতোভাবে সাহায্য করছে।”
রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ার এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তিনি আহত শিশুদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিশ্চিত করতে বলেছেন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “এই ঘটনায় আমি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। স্কুলের ছাদ ভেঙে পড়ার সঠিক কারণ জানার চেষ্টা চলছে। আমি জেলাশাসকের সঙ্গেও কথা বলেছি এবং দ্রুত পরিস্থিতির পর্যালোচনা ও যথাযথ সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছি।”
ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও দীর্ঘদিনের অভিযোগ
জানা গেছে, ঘটনার সময় স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষক, কর্মী-সহ প্রায় ৬০ জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, একটানা ভারী বৃষ্টির ফলেই স্কুলের ছাদ দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যা এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করে প্রচণ্ড শব্দে ছাদ ভেঙে পড়ে এবং মুহূর্তেই গোটা এলাকা ধুলোয় ঢেকে যায়।
পিপলোদি সরকারি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার ব্যবস্থা আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুল ভবনের খারাপ অবস্থা নিয়ে একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার দিকে আঙুল তুলছে।
উদ্ধারকার্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মীদের ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করতে তারা ব্যাপক সহায়তা করেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রশাসনের দল, জেলাশাসক এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। ধ্বংসাবশেষ সরানোর জন্য চারটি জেসিবি মেশিন ব্যবহার করা হয়।
রাজ্যের শিক্ষাসচিব কৃষ্ণ কুনাল নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জন শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছে। মৃত এবং আহত সকলেরই বয়স ৮ থেকে ১১ বছরের মধ্যে। আহত ও উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রথমে মানোহর থানা হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝালাওয়ারের বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা রাজ্যে স্কুল ভবনের সুরক্ষা এবং পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।