রাজপরিবারের চাপেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত! ডিউক অফ ইয়র্ক খেতাব ছাড়লেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু, কেন এই চরম পদক্ষেপ?

একাধিক বিতর্ক ও মরহুম মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের (Jeffrey Epstein) সঙ্গে বহু বছরের সম্পর্কের জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু। শুক্রবার তিনি ঘোষণা করেছেন যে, তিনি আর ডিউক অফ ইয়র্ক উপাধিটি ব্যবহার করবেন না।
প্রয়াত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের দ্বিতীয় পুত্র এবং বর্তমান কিং চার্লসের ছোট ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ভাবমূর্তি গত কয়েক বছরে এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এক বিবৃতিতে অ্যান্ড্রু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ক্রমাগত যে অভিযোগগুলি উঠছে, তা আমার বড় ভাই কিং চার্লস এবং বৃহত্তর রাজপরিবারের কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে।”
তিনি জানান, তিনি সর্বদা দেশ ও পরিবারের প্রতি তার কর্তব্যকে প্রথমে রাখেন। তাই পাঁচ বছর আগে জনজীবন থেকে সরে আসার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এবার তিনি এক ধাপ এগিয়ে যেতে চান।
বিবৃতিতে অ্যান্ড্রু আরও বলেন, “মহামান্য রাজার সম্মতিক্রমে, আমরা মনে করি আমার এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া উচিত। তাই আমি আমার উপর অর্পিত খেতাব বা সম্মানগুলি আর ব্যবহার করব না।” তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ তিনি বরাবরের মতোই জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।
রাজপরিবারের চাপেই সিদ্ধান্ত
রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পরই অ্যান্ড্রু তার পদবি ছেড়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেন। রাজপরিবারের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ফলস্বরূপ রাজা চার্লস খুশি হয়েছেন।
৬৫ বছর বয়সী প্রিন্স অ্যান্ড্রু, যিনি একসময় ফকল্যান্ড যুদ্ধে বীরত্বের জন্য প্রশংসিত হয়েছিলেন, তিনি ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০১৯ সালে সমস্ত রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে আসেন এবং ২০২২ সালে যৌন অসদাচরণের অভিযোগে সামরিক পদ এবং রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা হারান।
গত বছর আদালত একটি মামলার রায়ে জানায়, ব্রিটিশ সরকার বিশ্বাস করত যে অ্যান্ড্রুর একজন ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সহযোগী চীনা গুপ্তচর ছিলেন। অ্যান্ড্রু অবশ্য সেই সময় দাবি করেছিলেন যে তিনি সেই ব্যবসায়ীর সাথে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন।
জনতার রায়: ৬৭ শতাংশ মানুষ খেতাব প্রত্যাহারের পক্ষে
সম্প্রতি ইউগভ-এর (YouGov) একটি জনমত জরিপ অনুসারে, ৬৭ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক অ্যান্ড্রুর বাকি রাজকীয় খেতাবও কেড়ে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তাকে সমর্থন করেন মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ।
ইতিহাসবিদ অ্যান্টনি সেলডন বিবিসিকে জানিয়েছেন, “ঐতিহাসিকভাবে দেখলে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” তার মতে, শতাধিক বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো জ্যেষ্ঠ রাজপরিবারের সদস্য তার ডিউকডম খেতাব হারাচ্ছেন।
অ্যান্ড্রু ডিউক অফ ইয়র্ক খেতাব ব্যবহার করা বন্ধ করলেও তিনি এখনও প্রিন্স হিসেবেই থাকবেন এবং উইন্ডসর ক্যাসেলের রয়্যাল লজে বসবাস করবেন। তবে বার্ষিক রাজকীয় ক্রিসমাস গেট-টুগেদারে তিনি আর যোগ দেবেন না।
এদিকে, এই সিদ্ধান্তের ফলে অ্যান্ড্রুর প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফার্গুসনও আর ডাচেস অফ ইয়র্ক হিসাবে পরিচিত হবেন না। যদিও তাদের কন্যা প্রিন্সেস বিয়াত্রিস এবং ইউজিনির পদবির ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।