‘ছবি রিলিজের নামে তোলাবাজি বন্ধ হবেই’, ইমপা-র নতুন দায়িত্ব নিয়েই হুঙ্কার কৃষ্ণ দাগার

টলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (ইমপা)-র অন্দরে ঘটল এক বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল। দীর্ঘদিনের টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে সংগঠনের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিলেন কৃষ্ণ নারায়ণ দাগা। পিয়া সেনগুপ্তের হঠাৎ ইস্তফার পরেই ১৬ সদস্যের এক্সিকিউটিভ কমিটির জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির একাংশ এই রদবদলকে রতন সাহা এবং শতদীপ শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন।

নতুন এই নেতৃত্বের নেপথ্যে টলিউডের একাধিক প্রভাবশালী প্রযোজকের সমর্থন ছিল বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। বিশেষ করে শ্রীকান্ত মোহতা, প্রীতম জালান, নবীন চৌখানিয়া এবং বাবলু দামানির মতো ব্যক্তিত্বরা কৃষ্ণ দাগার পাশে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ইমপা-র শীর্ষপদ নিয়ে যাঁদের দাপট ছিল, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণেই সেই রতন সাহা শিবিরকে আজ কোণঠাসা হতে হয়েছে বলে কানাঘুষো চলছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষ্ণ নারায়ণ দাগা অত্যন্ত আবেগঘন সুরে বলেন, “একসময় আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা হয়েছিল। আজ সেই কমিটিই আমাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিয়েছে। এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে!” ইমপা-র নতুন রূপরেখা প্রসঙ্গে তিনি সরকারের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষত, ক্রমাগত বন্ধ হতে থাকা সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমা হল বাঁচাতে এবং ইন্ডাস্ট্রির সার্বিক সংকট কাটাতে তিনি রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

নতুন এই প্রেসিডেন্ট ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান রিলিজ পদ্ধতি নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, “ছবি মুক্তি নিয়ে প্রযোজকদের নানা জায়গায় ঘুরতে হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, আগে তিন লক্ষ টাকা কমিশন দিলে তবেই মুক্তির ব্যবস্থা হয়। আমি এই তোলাবাজি ও অস্বচ্ছ সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর।” ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন প্রযোজক ও নতুন প্রতিভাকে স্বাগত জানানোর ডাক দিয়ে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনাই হবে তাঁর প্রথম কাজ।

গত রাতে নাটকীয়ভাবে এই ক্ষমতার পরিবর্তন সম্পন্ন হয়েছে। টলিউডের বর্তমান সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে কৃষ্ণ নারায়ণ দাগার এই নেতৃত্ব ইমপা-র অন্দরে কতটা স্থিতি ফেরাতে পারবে, কিংবা নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হবে কি না—তা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্র মহলে।