ফাঁকা বাড়িতে ৯ বছরের শিশুর ওপর পিশাচের হানা! অসুস্থ চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন!

মহারাষ্ট্রের পুনে শহরে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে অসুস্থ এক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ২৫ বছরের যুবককে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুনে-নাসিক হাইওয়ে অবরুদ্ধ করে তুমুল বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ জনতা। অপরাধীর দ্রুত ফাঁসি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে, মৃত ওই নাবালিকার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। গত মঙ্গলবার অসুস্থতার কারণে সে স্কুলেই যায়নি। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তার বাবা-মা কাজে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে বাড়িতে সম্পূর্ণ একাই ছিল ওই ৯ বছরের শিশুটি। আর ঠিক এই সুযোগটিই নেয় প্রতিবেশী অভিযুক্ত যুবক। পুলিশি তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে শিশুটিকে প্রথমে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয় এবং প্রমাণ লোপাট করতে বা অপরাধ ঢাকতে পরে তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে ওই নরপশু।

সন্ধ্যায় কাজে ফিরে মেয়েকে বাড়িতে না দেখতে পেয়ে আশঙ্কায় পড়েন বাবা-মা। এরপর প্রতিবেশীদের নিয়ে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। রাতারাতি পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁরা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারের নামে পুলিশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে লোকদেখানো খোঁজাখুঁজিতে যোগ দিয়েছিল খোদ অভিযুক্ত যুবকও। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশ ওই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করলে এক যুবকের সাইকেলে করে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির দৃশ্য ধরা পড়ে। এরপরই পুলিশ ওই যুবককে আটক করে দীর্ঘক্ষণ দফায় দফায় জেরা করে। পুলিশের কঠোর জেরার মুখে ভেঙে পড়ে সে এবং নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে নেয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাড়ির অদূরে একটি গাছের তলা থেকে মৃত নাবালিকার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পর এলাকার মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও চরম ঘৃণা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সাফ দাবি, অপরাধীর একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। অভিযুক্তের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই ধরনের নারকীয় অপরাধ সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে।