সিনেমা দেখে ভয়ংকর পরিকল্পনা! কেরলে সোনার লোভে নাবালিকার হাত ধরে খুন দাকিল আত্মীয়!

আজকের যুগে শখ মেটানোর উন্মাদনা কীভাবে মানুষকে অপরাধের অন্ধকার জগতে ঠেলে দিতে পারে, তার এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী থাকল কেরল। আইফোন এবং একটি নতুন বাইক কেনার টাকা জোগাড় করতে নিজের এক আত্মীয়কে ঠান্ডা মাথায় খুন করার অভিযোগ উঠল মাত্র তেরো বছর বয়সি এক কিশোরীর বিরুদ্ধে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তার ১৭ বছরের বয়সি প্রেমিক সহ মোট চারজনকে ইতিমধ্যেই নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। অপরাধের তীব্রতা এবং নৃশংসতা দেখে পুলিশ প্রশাসনও রীতিমতো স্তম্ভিত।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা গিয়েছে, কেরলের আলাপ্পুঝা জেলায় ঘটেছে এই ভয়াবহ কাণ্ড। মৃত ব্যক্তির নাম শিবনকুট্টি চেট্টিয়ার। অভিযুক্ত কিশোরী ও তার বয়ফ্রেন্ডের টাকার ভীষণ প্রয়োজন ছিল। নিজেদের শখ পূরণের জন্য তারা ওই আত্মীয়ের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সোনা রয়েছে জেনে তা চুরির ছক কষে। পরিকল্পনা মতো, গত শনিবার সন্ধেবেলা যখন বাড়িতে শিবনকুট্টি একা ছিলেন, সেই সুযোগে তিন কিশোর পেছনের ভেন্টিলেটরের সরু রাস্তা দিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর শুরু হয় ধস্তাধস্তি। প্রৌঢ়কে মাটিতে ফেলে হাত-পা বেঁধে গলায় শক্ত করে কাপড় পেঁচিয়ে খুন করা হয়। অপরাধের পর তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে ঘটনাস্থলে লঙ্কার গুঁড়ো পর্যন্ত ছড়িয়ে দিয়েছিল অভিযুক্তরা। সিনেমা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই তারা এই ভয়ংকর পরিকল্পনা করেছিল বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও মূল ষড়যন্ত্রকারী ওই তেরো বছরের কিশোরী ভিডিও কলের মাধ্যমে পুরো খুনটি নিজের চোখে দেখে। এমনকি মৃত ব্যক্তির বাড়িতে কোথায় সোনা রাখা আছে, তা সে প্রেমিককে লাইভ ভিডিও কলে বলে দিয়েছিল। পুলিশি জেরায় এই তথ্য সামনে আসতেই তদন্তকারীদের পায়ের তলার মাটি সরে যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ ভেবেছিল এটি নেহাতই একটি ডাকাতির উদ্দেশ্যে খুন। কিন্তু পরিজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় ওই নাবালিকার কথায় অসংগতি ধরা পড়ায় রহস্যের জাল উন্মোচিত হয়।

পুলিশ সুপার বিষ্ণু প্রদীপ জানিয়েছেন, চুরি করা সোনা বিক্রি করে যে টাকা মিলত, তা দিয়ে প্রেমিকার জন্য একটি আইফোন এবং প্রেমিক ও তার বন্ধুদের জন্য বাইক কেনার পরিকল্পনা ছিল। যদিও ধৃত কিশোরী পুলিশকে জানিয়েছে যে মৃত ব্যক্তি অতীতে তাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করেছিলেন এবং সেই আক্রোশ থেকেও এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তবে পুলিশ এই দাবি আলাদাভাবে খতিয়ে দেখছে। কোল্লাম জেলা থেকে চুরি যাওয়া সোনার কিছু অংশ বিক্রি করে ১৬ হাজার টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের সোনা উদ্ধার করেছে। ১৬ ও ১৭ বছরের দুই অভিযুক্ত কিশোরকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করার আইনি দিকগুলিও এখন খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। এই রোমহর্ষক ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক ও চরম আতঙ্ক।