রবীন্দ্রভবনের পাশাপাশি এবার দেখা যাবে রবীন্দ্রনাথের প্রাচীন বাড়ি, বড় ঘোষণা বিশ্বভারতীর!

বিশ্বভারতীর মুকুটে জুড়ল নতুন এবং ঐতিহাসিক এক feather। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্যতম মর্যাদাপ্রাপ্ত ঐতিহ্যবাহী ‘শান্তিনিকেতন গৃহ’ এবার আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হলো পর্যটকদের জন্য। গত শনিবার, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস বা ২২ শ্রাবণের পবিত্র দিনেই প্রাচীন এই বাড়িটি সাধারণ মানুষের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ (ASI) শান্তিনিকেতন গৃহটি সংস্কার করে আগেই বিশ্বভারতীর হাতে তুলে দিয়েছিল। এবার থেকে রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালা দেখার সাধারণ টিকিটেই পর্যটকেরা এই ঐতিহাসিক গৃহটি ঘুরে দেখতে পারবেন।
ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট: যেখান থেকেই নাম হয়েছিল ‘শান্তিনিকেতন’
ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, এই প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ‘শান্তিনিকেতন গৃহ’-এর নামানুসারেই পরবর্তীকালে এই পুরো বিস্তীর্ণ এলাকার নামকরণ করা হয়েছিল। রায়পুরের জমিদার প্রতাপ নারায়ণ সিংহের দলিল অনুযায়ী জানা যায়, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতন আশ্রম প্রতিষ্ঠারও বহু আগে থেকেই এই গৃহটি সেখানে বিদ্যমান ছিল। উপাসনা গৃহ প্রতিষ্ঠার আগে আদি এই শান্তিনিকেতন গৃহেই ব্রহ্ম উপাসনা করা হতো। এমনকি ১৮৯৫ সাল থেকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সপরিবারে এই গৃহে বসবাসও শুরু করেছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রায় দু’দশক আগে একবার পর্যটকদের জন্য এই গৃহ খুলে দেওয়া হলেও পরবর্তীকালে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এর প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দীর্ঘ কুড়ি বছর পর আবার তা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় খুশির হাওয়া পর্যটক মহলে।
খুব শীঘ্রই খুলছে উদয়ন, উদিচি-সহ কবিগুরুর অন্য বাড়িগুলিও
বিশ্বভারতী সূত্রে খবর, শুধুমাত্র শান্তিনিকেতন গৃহই নয়, চলতি অগাস্ট মাসের মধ্যেই কবিগুরুর আরও পাঁচটি ঐতিহাসিক বাড়ি— উদয়ন, উদিচি, শ্যামলী, কোণার্ক এবং পুনশ্চ— পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ জানিয়েছেন, গত শনিবারই এই বাড়িগুলি খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তবে বর্ষা ও কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে তা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক মাসের মধ্যে এই পাঁচটি বাড়িও সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া যাবে।
গাইডের ঝামেলা নেই, থাকছে ‘কম্বো টিকিট’ ও অডিও গাইড!
পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে বিশেষ বন্দোবস্ত করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এই ঐতিহাসিক স্থানগুলি ঘুরে দেখার জন্য পর্যটকদের আলাদা করে কোনো গাইডের প্রয়োজন পড়বে না। ভ্রমণার্থীদের সুবিধার জন্য থাকছে অডিও গাইডেন্স ব্যবস্থা এবং সুবিন্যস্ত লিখিত তথ্যের বোর্ড।
তাছাড়া, হেরিটেজ ওয়াক, মিউজিয়াম ও কবিগুরুর বাড়িগুলি পরিদর্শন করার জন্য বর্তমানে আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা থাকলেও, খুব শীঘ্রই একটি ‘কম্বো টিকিট’ বা সাশ্রয়ী প্যাকেজ টিকিটের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর ফলে তুলনামূলক কম খরচে পর্যটকেরা বিশ্বভারতীর সমস্ত দর্শনীয় স্থান একনজরে দেখার সুযোগ পাবেন।
চালু হচ্ছে হাসপাতাল ও গোশালাও
শুধু পর্যটন নয়, সাধারণ মানুষের কল্যাণে এবং ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্বভারতী। কোভিডের সময় থেকে বন্ধ থাকা ‘এন্ড্রুজ়’ হাসপাতাল খুব শীঘ্রই পুনরায় চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বিশ্বভারতীর নিজস্ব গোশালাও সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে ভবঘুরে ও চত্বরে ঘুরে বেড়ানো গরুগুলিকে আশ্রয় দেওয়া হবে এবং তাদের উন্নত চিকিৎসার বন্দোবস্ত থাকবে। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের আশা, এই গোশালার উৎপাদিত খাঁটি দুধ সরাসরি পাঠভবনের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে বিশেষ ভূমিকা নেবে, কারণ বর্তমানে শ্রীনিকেতন ডেয়ারি থেকে প্রাপ্ত দুধ শিক্ষার্থীদের চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম।