তিলোত্তমা কাণ্ডে বড় মোড়! শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরেই নতুন এফআইআর দায়ের খড়দহ থানায়

তিলোত্তমার মৃত্যুর দু’বছর পার হওয়ার পর এই হাইপ্রোফাইল মামলার তদন্তে এক অভাবনীয় এবং নাটকীয় মোড়ল দেখা গেল। গত ৯ আগস্ট তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীর দিন স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করা হয়েছিল যে, এই মর্মান্তিক ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনোভাবেই পিছপা হবে না বর্তমান প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুনির্দিষ্ট এবং কড়া নির্দেশ পাওয়ার মাত্র একদিনের মধ্যেই পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ তৎপরতায় নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। ফলস্বরূপ, খড়দহ থানায় তিলোত্তমার বাবা নিজে সশরীরে উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যার ভিত্তিতে গোটা মামলাটিতে সম্পূর্ণ নতুন একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।

গত রবিবার তিলোত্তমার স্মৃতির উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণসভায় উপস্থিত থেকে সরব হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই মঞ্চ থেকেই অত্যন্ত জোরালো ভাষায় তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, কীভাবে তিলোত্তমার মৃতদেহ দাহ করার খরচ পরিবারের লোক না দিয়ে অন্য কেউ বহন করল এবং যেখানে পরিবারের বাধ্যতামূলক সই পর্যন্ত নেওয়া হয়নি, সেখানে এই বেআইনি প্রক্রিয়া কারা পরিচালনা করেছিল? এরপর প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই তিনি সরাসরি নাম উল্লেখ করে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সন্দীপ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেন। ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, অবিলম্বে নতুন মামলা রুজু করে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে, কারণ দেশের সাধারণ মানুষ এবং বিচারপ্রার্থীরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সঠিক বিচার দেখতে মুখিয়ে রয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই দ্ব্যর্থহীন প্রতিশ্রুতির পরেই প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয়েছে জোর তৎপরতা। পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে যে, খড়দহ থানায় দায়ের করা এই নতুন লিখিত অভিযোগে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্য প্রমাণ লোপাট এবং বেআইনিভাবে দাহকাজ সম্পন্ন করার মতো অত্যন্ত গুরুতর একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এই পুরো মামলাটিতে নতুন করে আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জড়িয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা এই দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াইয়ে তিলোত্তমার পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে এই নতুন এফআইআর একটি অত্যন্ত নির্ণায়ক পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।