বেতন বাড়তেই বড় সিদ্ধান্ত নবান্নের! সপ্তম বেতন কমিশনের জালিয়াতি রুখতে আসছে নতুন ওয়েবসাইট

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হয়েছে নতুন সপ্তম বেতন কমিশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের গঠিত সপ্তম বেতন কমিশনের প্রথম উচ্চপর্যায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে মূলত স্বশাসিত সংস্থা, বিভিন্ন কর্পোরেশন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি এবং কাজের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তবে এই বেতন কমিশন গঠনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একাধিক ভুয়া নথি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এই ধরনের জালিয়াতি এবং ভুয়ো খবরের দৌরাত্ম্য রুখতে এবার নবান্নের পক্ষ থেকে একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং নির্ভরযোগ্য সরকারি ওয়েবসাইট চালুর উদাত্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে কড়া সতর্কতা জারি করেছে কমিশন। সম্প্রতি সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ সংক্রান্ত একটি তথাকথিত ‘অনুমোদনহীন’ নথি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ওই ভাইরাল নথিতে থাকা সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং পুরোপুরি যাচাই না-করা। কমিশন সাফ জানিয়েছে যে, সবেমাত্র তাদের কাজ শুরু হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি বা সুপারিশ সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়নি। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ার এই ধরণের অনুমোদনহীন সূত্র থেকে প্রাপ্ত কোনো ভুল তথ্য বিশ্বাস না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি কর্মচারীকে জোরালোভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
নতুন গঠিত এই সপ্তম বেতন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব হলো রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মূল বেতন, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং চাকরির বিভিন্ন পরিষেবাগত শর্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে একটি নতুন এবং আধুনিক সুপারিশ পেশ করা। এর ফলে আগামী দিনে সরকারি কর্মীদের ইন-হ্যান্ড স্যালারি বা হাতে আসা বেতনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক অতনু চক্রবর্তীকে। পাশাপাশি, কমিশনের অন্যান্য সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্বনামধন্য গবেষক পার্থ মুখোপাধ্যায় এবং আইআইএম কলকাতার অর্থনীতির খ্যাতনামা অধ্যাপক পার্থ প্রতিম পাল। কলকাতার ঐতিহাসিক সদর দফতর থেকেই এই পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক চাহিদা এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখেই নতুন বেতন কাঠামোর রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। তবে বিভ্রান্তি এড়াতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয়েছে যে, কমিশন সংক্রান্ত যেকোনো আপডেট বা প্রামাণ্য তথ্য পাওয়ার জন্য শুধুমাত্র নবান্নের পক্ষ থেকে শীঘ্রই চালু হতে চলা নতুন অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ওপর ভরসা রাখা উচিত। ভুয়ো খবরের ফাঁদে পা না দিয়ে সরকারি নির্দেশিকার অপেক্ষায় থাকার পরামর্শই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।