রথযাত্রার আগে পুরীতে মহাযুদ্ধের মহড়া! ১৫ লক্ষ ভক্তের ভিড় সামলাতে প্রস্তুত প্রশাসন

আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। ১৬ জুলাই পুরীতে শুরু হতে চলেছে বিশ্ববিখ্যাত জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। লাখ লাখ ভক্তের সমাগম মাথায় রেখে মঙ্গলবার পুরীতে আয়োজিত হলো এক বিশাল মাপের বিপর্যয় মোকাবিলা মহড়া। ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF), ওড়িশা ফায়ার সার্ভিস, স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস এবং বিভিন্ন জরুরি পরিষেবার প্রতিনিধিরা এই মহড়ায় অংশ নিয়ে উৎসবের আগে প্রস্তুতির প্রতিটি দিক ঝালিয়ে নিলেন। যেকোনো ধরনের আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং ভিড়ের মধ্যে জরুরি পরিষেবার গতিপথ সুনিশ্চিত করাই ছিল এই মহড়ার মূল লক্ষ্য।

এএনআই (ANI)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কাউট অ্যান্ড গাইডসের স্বেচ্ছাসেবক রাজ পট্টনায়েক জানান, এবারের রথযাত্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ, এমনকি তার চেয়েও বেশি ভক্তের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে একটি কার্যকর ‘গ্রিন করিডোর’ তৈরি করা, যাতে রথযাত্রার উত্তাল ভিড়ের মধ্যেও অ্যাম্বুলেন্স দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে পারে। জেলা প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহযোগিতায় আমরা গত তিনদিন ধরে এই বিশেষ পরিস্থিতির জন্য প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আমরা মনে করি প্রতিটি জীবন অমূল্য, আর সেই জীবন বাঁচাতে আমরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করতে প্রস্তুত।”

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক রথযাত্রা ১৬ জুলাই শুরু হয়ে ২৪ জুলাই বাহুদা যাত্রা বা ফিরতি যাত্রার মাধ্যমে শেষ হবে। এরপর ২৭ জুলাই দেবতাদের মূল মন্দিরে প্রবেশ করার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে এই নয় দিনের পবিত্র উৎসব। এই মহড়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকেই জোর দিয়েছে পুরী প্রশাসন।

অন্যদিকে, পুরীর শ্রীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় তিনটি বিশাল রথ নির্মাণের কাজও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের শেষ ধাপে রয়েছে। ভগবান জগন্নাথ, ভগবান বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রার রথ সুসজ্জিত করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন দক্ষ শিল্পী ও মহারানা সেবায়েতরা। গত অক্ষয় তৃতীয়ায় প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় বিধি কঠোরভাবে মেনে রথগুলি নির্মাণের শেষ মুহূর্তের কাজ তদারকি করছেন সেবায়েতরা।

পুরীর এই পবিত্র শহরে রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত যে কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা লক্ষাধিক ভক্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। প্রশাসনিক সমন্বয় থেকে শুরু করে সেবায়েতদের নিপুণ হাতের কাজ—সব মিলিয়ে পুরী এখন জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। উৎসবের কয়েক দিন আগে হওয়া এই মহড়া প্রমাণ করে যে, ভক্তদের আবেগ ও সুরক্ষার মেলবন্ধনে কোনো খামতি রাখছে না প্রশাসন।