রণক্ষেত্রের প্রস্তুতি কলকাতায়, যুদ্ধের আগে কেন জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী

সামনেই দুর্গা পুজো, আর তার আগেই কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এবার কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা দলীয় কাজে নয়, বরং দেশের সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে তিনি ফোর্ট উইলিয়ামে আসছেন। এই সফর সামরিক এবং রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন এই বৈঠক ফোর্ট উইলিয়ামে?
আগামী ১৫ এবং ১৬ সেপ্টেম্বর কলকাতায় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সদর দফতরে কম্বাইন্ড কমান্ড কনফারেন্স-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক অতীতে প্রধানমন্ত্রীর কলকাতায় এসে এমন একটি নিরাপত্তা বৈঠকে যোগ দেওয়ার নজির নেই। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই বৈঠককে দুটি কারণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন:

১. ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন সিঁদুর-এর সফলতার পর এটি দেশের প্রতিরক্ষা বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করেই কলকাতাকে বৈঠকের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

২. বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা: সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান ভারতের পূর্ব সীমান্তে হামলা চালাতে পারে।

কী আলোচনা হবে বৈঠকে?
এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান। তিন বাহিনীর প্রধানরাও এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দেবেন। বৈঠকে তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি ব্যবহারের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের গুরুত্ব বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট বার্তা।