যোগ্যদের জন্য সুখবর! কবে থেকে শুরু হবে বেকার ভাতা? বিশেষ মন্তব্য দিলীপ ঘোষের

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, যুবশ্রী ও যুবসাথীর মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। সরকার বদলের পর থেকেই অধিকাংশ ভাতার টাকা আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপভোক্তারা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। এই আবহে রাজ্যজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে—প্রকল্পগুলি কি চিরতরে বন্ধ হলো, নাকি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে?

সরকার বদলের আগে বিজেপি ক্ষমতায় আসার প্রাক্কালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা এবং বেকার যুবকদের ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন প্রশ্ন একটাই—ঠিক কবে থেকে চালু হবে এই নতুন ভাতা প্রকল্প? কবে থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে?

মঙ্গলবার উলুবেড়িয়া ২ নম্বর ব্লকের জোয়ারগড়ি গ্রামে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, আগের সরকার শুধুমাত্র নিজেদের দলের লোক এবং ঘনিষ্ঠদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রকল্পগুলি তৈরি করেছিল। দিলীপবাবু বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, তৃণমূল জমানায় প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ পুরুষের অ্যাকাউন্টে অবৈধভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পৌঁছেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান বিজেপি সরকার এই অনিয়ম আর চলতে দেবে না।

ভাতা বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, এবার থেকে শুধুমাত্র যোগ্য ও প্রকৃত অভাবী মানুষরাই সরকারি ভাতার সুবিধা পাবেন। কোনও বিদেশি বা অযোগ্য ব্যক্তি আর সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবে না। এই বাছাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য সরকার আগামী তিন মাসের সময়সীমা ধার্য করেছে। তিন মাস পর থেকেই রাজ্যে উন্নয়নের এক নতুন চিত্র চোখে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তবে, বিধবা বা বার্ধক্য ভাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি নিয়ে বর্তমান সরকার ঠিক কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, তা নিয়ে অবশ্য এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য শীঘ্রই একটি বিশেষ পোর্টাল চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। সেখান থেকেই আবেদন ও ভাতার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রের খবর, প্রকল্পের নতুন নিয়মাবলি ও উপভোক্তা তালিকা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী তিন মাসের মধ্যেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ও বেকার ভাতার সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায় কি না। রাজ্যের নতুন সরকার যে পুরনো ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, তা দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে কার্যত স্পষ্ট।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy