যুবসাথীর দিন শেষ! নতুন ‘যুব শক্তি’ প্রকল্পে মিলবে ৩০০০ টাকা, বাজিমাত বিজেপি সরকারের

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোতে আমূল পরিবর্তন আনছে বিজেপি সরকার। পূর্ববর্তী সরকারের চালু করা প্রকল্পগুলোর নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে ভাতার পরিমাণও। এই নতুন প্রশাসনিক উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। সরকারি সূত্রে খবর, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের পরিবর্তে নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করা হয়েছে, যেখানে সুবিধাভোগীরা এখন থেকে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।

কেবল মহিলাদের জন্যই নয়, যুব প্রজন্মের জন্যও রয়েছে সুখবর। আগের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের বদলে নতুন করে চালু হয়েছে ‘যুব শক্তি’ প্রকল্প। এই প্রকল্পে বেকার যুবক-যুবতীদের আগের ১৫০০ টাকার পরিবর্তে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ২,০০০ টাকা করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরগুলোতে এই ভাতা সংক্রান্ত নতুন আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

বার্ধক্য ভাতার আবেদনের নিয়ম ও শর্তাবলি:
বর্তমানে এই প্রকল্পগুলোতে নতুন করে আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। তবে খুব শীঘ্রই সরকারি পোর্টাল এবং অফলাইন ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদনের নতুন দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে। নতুন নির্দেশিকা জারি হলে আবেদনকারীরা নিচের শর্তাবলী মেনে আবেদন করতে পারবেন:

বয়সসীমা: সাধারণ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়স ৬০ বছর হতে হবে। তবে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বয়সের শিথিলতা রয়েছে, তারা ৫৫ বছর বয়স থেকেই আবেদন করতে পারবেন। জন্মতারিখের প্রমাণ না থাকলে ১ জুলাই বা ১৬ তারিখকে ভিত্তি ধরে বয়স গণনা করা হবে।

বাসিন্দার শংসাপত্র: আবেদনকারীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য অন্তত টানা ১০ বছর রাজ্যে বসবাস করার প্রমাণ থাকতে হবে।

প্রয়োজনীয় নথি: আবেদনের সময় আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং নিজের সক্রিয় ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি (Attested Xerox) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

সরকারের এই নতুন উদ্যোগকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। ভাতার পরিমাণ বাড়ানোয় প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর আর্থিক সুরক্ষায় এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারি নতুন নির্দেশিকা আসার পর কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং কোন কোন নথিতে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে সরকারি ওয়েবসাইটেই জানিয়ে দেওয়া হবে।