“বিজেপির নাম করে টাকা চাইলে সোজা পুলিশে দিন!” চাঁদাবাজদের হুঁশিয়ারি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের সুভাষ ময়দানে ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক রক্তদান শিবিরে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এক চাঞ্চল্যকর ও কঠোর অবস্থান নিলেন। রাজ্যজুড়ে বিজেপির নাম ভাঙিয়ে চলা বিভিন্ন চাঁদাবাজি এবং তোলাবাজির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি সরাসরি দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছেন।
এদিন রক্তদান শিবিরের মঞ্চ থেকে সুকান্ত মজুমদার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, বিজেপির নিজস্ব কোনো শ্রমিক সংগঠন নেই। তিনি বলেন, “বিজেপির নাম করে কেউ যদি আপনাদের কাছে টাকা দাবি করে, তবে এক টাকাও দেবেন না। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান।” মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, দলের অন্দরে থাকা কিছু অসাধু ব্যক্তিদের চাপে নিয়ন্ত্রণ করতেই সুকান্ত মজুমদার এই কড়া বার্তা দিয়েছেন।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস) কোনো রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে চলে না। বিএমএস একটি স্বতন্ত্র শ্রমিক সংগঠন। রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে যারা শ্রমিক সংগঠনের নামে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম করছে বা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কাটমানি আদায় করছে, তাদের প্রতি তিনি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি দেখাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। মন্ত্রীর কথায়, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের লক্ষ্য, কারো পকেট কাটার জন্য আমাদের দল তৈরি হয়নি।”
সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির পরিচয়ে শ্রমিক সংগঠনের নামে তোলাবাজির অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে সুকান্ত মজুমদারের এই সতর্কতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি যে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, তা তাঁর আজকের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট। তিনি উপস্থিত দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে সেবার মাধ্যমে, ভয় দেখিয়ে বা চাঁদাবাজি করে নয়।
সুকান্ত মজুমদারের এই কড়া হুঁশিয়ারি কি তবে দলের ভেতরে থাকা প্রভাবশালীদের লক্ষ্য করে? নাকি রাজ্যে বিজেপির ভাবমূর্তি ফেরাতে এটি এক বিশেষ কৌশল? তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তবে মন্ত্রীর এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষ ও সাধারণ ব্যবসায়ী মহল স্বাগত জানিয়েছে। বিএমএস-এর রক্তদান শিবিরের মঞ্চ থেকে সুকান্ত মজুমদারের এই বক্তব্য রাজনৈতিক আঙিনায় নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিল, যেখানে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে।