‘যুবশক্তির তোয়াক্কা নেই!’ সনম ওয়াংচুকের অনশনে সরব আদিত্য ঠাকরে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

জলবায়ু কর্মী সনম ওয়াংচুকের আমরণ অনশন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহল উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র তোপ দাগলেন শিবসেনা (UBT) নেতা আদিত্য ঠাকরে। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান এই অনশনের প্রতি কেন্দ্রের উদাসীনতা ও সংবেদনহীনতাকে চরম পর্যায়ের বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। আদিত্য ঠাকরে স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন যে, দেশের বর্তমান সরকার যুবসমাজের ভবিষ্যৎ বা জনস্বার্থের চেয়ে বিভাজনের রাজনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে আদিত্য ঠাকরে লেখেন, দিল্লির ঠান্ডায় সনম ওয়াংচুক যেভাবে নিজের দাবি আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের এই চরম অবহেলা বুঝিয়ে দেয়—এদের কাছে যুব ভারতের কোনো মূল্য নেই। বর্তমান সরকারের নীতি কেবলই বিভাজন তৈরি করে নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা।
এই বক্তব্যের রেশ ধরেই NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ওপর সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন আদিত্য। তিনি দাবি করেন, দেশের মেডিকেল কলেজের প্রবেশিকা পরীক্ষায় এমন নজিরবিহীন দুর্নীতি হওয়ার পরেও কীভাবে একজন অযোগ্য শিক্ষামন্ত্রী নিজের পদে বহাল থাকতে পারেন? আদিত্যর সাফ কথা, “আমার দাবি অত্যন্ত সরল। এই গুরুতর পরিস্থিতির দায়ভার শিক্ষামন্ত্রীকে নিতে হবে এবং অবিলম্বে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।” তাঁর মতে, অন্য কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এমন ব্যর্থতার পর মন্ত্রীর পদে থাকা প্রায় অসম্ভব।
পাশাপাশি আদিত্য ঠাকরে রাম মন্দির ইস্যু, ইথানল নীতি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো একের পর এক বিতর্কিত বিষয় তুলে ধরে বলেন, “বিজেপি এই ইস্যুগুলোর মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে ফাটল ধরাতে চাইছে। তাদের একটাই পলিসি—বিভাজন করো এবং শাসন করো।” অর্থাৎ, সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে বিতর্ককে হাতিয়ার করার অভিযোগ এনেছেন তিনি।
অন্যদিকে, সনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় বিষয়টি এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের ওপর যেন প্রতিদিন নিবিড় নজর রাখা হয়। আদালত মন্তব্য করে, প্রতিটি নাগরিকের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। সরকারি ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী যখনই প্রয়োজন হবে, তখনই দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে।
এই জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সরকারি মেডিকেল টিম নিয়মিত ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে মেডিকেল স্টাফের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানান। একদিকে রাজপথে সনম ওয়াংচুকের অনশন, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের তীব্র চাপ—সব মিলিয়ে দেশের এই ইস্যু এখন এক সংকটময় মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।