মির্জাপুরে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনা! বাড়ির ওপর আছড়ে পড়ল ট্রাক, মৃত ৩, পুলিশের ওপর পাথরবৃষ্টি

উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরে বৃহস্পতিবার ভোররাতে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহরাউরা এলাকার কুদরান মোড়ের কাছে একটি দ্রুতগামী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি একটি বাড়িতে আছড়ে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাণসী থেকে সোনভদ্রগামী একটি দ্রুতগামী ট্রাক বৃহস্পতিবার ভোররাত প্রায় ৩টে নাগাদ কুদরান মোড়ের কাছে পৌঁছালে হঠাৎই সেটির টায়ার ফেটে যায়। টায়ার ফেটে যাওয়ার ফলে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশেই থাকা একটি বাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে। বাড়ির একাংশ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান বাড়ির বাসিন্দারা। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ও বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয় এবং গুরুতর আহত দুজনকে চুনারের চাচেরি মোড় সিএইচসি-তে পাঠানো হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বারাণসীর ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। এরা হলেন কুদরান গ্রামের বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী রাজারাম, ৭০ বছর বয়সী সুখিয়া এবং ৪৫ বছর বয়সী চদতারা। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন ১২ বছর বয়সী সুহানি এবং ৪৫ বছর বয়সী সুনীল শর্মা। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই সকাল ৮টা নাগাদ মৃতদের আত্মীয় এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা বারাণসী-শক্তিনগর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ, পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে, যা উত্তেজনাকে তুঙ্গে নিয়ে যায়।
এর পরেই গ্রামবাসীরা পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক পাথর ছুড়তে শুরু করেন। এই পাথরবৃষ্টিতে পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনায় এক ইন্সপেক্টর এবং চারজন কনস্টেবল আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এবং পিএসি (PAC) মোতায়েন করা হয়। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে ট্রাকের টায়ার ফেটে যাওয়ার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘাতক ট্রাকটিকে পুলিশ ইতিমধ্যে আটক করেছে এবং চালকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এলাকায় শান্তি ফেরাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।