যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে কি প্রস্তুত? ৯টি পারমাণবিক বোমা বহনকারী জাগুয়ার কিনছে ভারত!

ভারতীয় বিমানবাহিনী তাদের স্কোয়াড্রনের শক্তি বাড়াতে নতুন কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ৯টি ‘জাগুয়ার’ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। যদিও ভারতীয় বিমানবাহিনীতে যুদ্ধবিমানের ঘাটতি রয়েছে, তবে এই ৯টি বিমান কেবল ঘাটতি মেটানোর জন্য নয়, বরং সুনির্দিষ্ট কিছু সামরিক ও কৌশলগত অভিযানের লক্ষ্যেই এগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কেন ইউরোপের আধুনিক ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ উপেক্ষা করে ভারত জাগুয়ার বেছে নিল? অতীতে জার্মানি, ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ইউরোফাইটার টাইফুন রাফালের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভারতের সামনে এসেছিল। এমনকি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীও ব্যক্তিগতভাবে টাইফুন কেনার জন্য সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু ভারত রাফালকেই চূড়ান্তভাবে বেছে নেয়।
চলতি বছরের মার্চ মাসে, ভারত ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য বিশ্বের দুটি বড় প্রকল্পে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে—যুক্তরাজ্য, ইতালি ও জাপানের ‘গ্লোবাল কমব্যাট এয়ার প্রোগ্রাম’ (GCAP) এবং ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনের ‘ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম’ (FCAS)। যদিও এফসিএএস জোটটি প্রযুক্তির মেধাস্বত্ব ও মতবিরোধের কারণে বর্তমানে অনিশ্চিত, তবুও ভারতের লক্ষ্য এখন প্রযুক্তির সর্বাধুনিক শিখরে পৌঁছানো।
এই পরিস্থিতিতে পুরনো জাগুয়ার বিমান সংগ্রহের কারণটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ‘সেপেক্যাট জাগুয়ার’ হলো মূলত অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি থেকে শত্রুর অবস্থানে নিখুঁত আঘাত হানতে পারদর্শী এক শক্তিশালী যুদ্ধ-বোমারু বিমান। ১৯৭৮ সালে যখন ভারত ‘ডিপ পেনিট্রেশন স্ট্রাইক এয়ারক্রাফট’ (DPSA) হিসেবে এই বিমানটিকে নির্বাচন করেছিল, তখন থেকেই এটি শত্রুর গভীরে আঘাত হানার জন্য ভারতের তুরুপের তাস। ভারতের হাতে থাকা পুরোনো বিমানগুলোর আয়ু বৃদ্ধি এবং বিশেষায়িত মিশনে এই নতুন জাগুয়ারগুলো অত্যাবশ্যকীয় ভূমিকা পালন করবে।
ঐতিহাসিকভাবে, যুক্তরাজ্য থেকে প্রাপ্ত এই প্রযুক্তির ওপর ভারতের গভীর আস্থা রয়েছে। ব্রিটিশ অ্যারোস্পেসের সাথে যৌথভাবে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) অতীতেও দেশীয়ভাবে এই বিমানগুলো উৎপাদন করেছে। এখন নতুন করে এই ৯টি বিমান সংগ্রহের মাধ্যমে ভারত তার বিদ্যমান সক্ষমতাকে আরও জোরদার করতে চাইছে, যা পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশ্বরাজনীতি ও ভূ-কৌশলগত পরিস্থিতিতে ভারতের এই সিদ্ধান্ত যে কেবল পুরনো মডেলের প্রতি মোহ নয়, বরং সামরিক দক্ষতার এক সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য, তা স্পষ্ট।