মা-বাবাকে না জানিয়েই ইসরোর ইন্টারভিউ! অদম্য সঙ্কেতের সাফল্যের গল্পে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া

মিরাটের দেওয়ান পাবলিক স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র সঙ্কেত কুমার আজ কেবল একটি নাম নন, তিনি হাজারো শিক্ষার্থীর কাছে সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সব প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন ভারতের গর্ব, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)-তে বিজ্ঞানী হিসেবে। যে ছেলেটি একসময় মাত্র ২ নম্বরের জন্য জে-ই-ই অ্যাডভান্সড (JEE Advanced) পরীক্ষায় কোয়ালিফাই করতে পারেননি, আজ তিনি দেশের মহাকাশ গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সঙ্কেতের সাফল্যের পথটা মোটেও সহজ ছিল না। ২০২১ সালে জে-ই-ই অ্যাডভান্সড পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর যখন তাঁর হাত থেকে সুযোগ ফসকে যায়, তখন চারপাশ থেকে ভেসে এসেছিল নানা মন্তব্য। অনেকেই তাঁকে হাল ছেড়ে অন্য ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সঙ্কেত ভেঙে পড়েননি। তিনি এক বছরের ড্রপ নেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই লড়াইয়ে তিনি কোনো নামী কোচিং ইনস্টিটিউটের সাহায্য নেননি। ইন্টারনেটের অসীম সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ইউটিউব ভিডিও এবং পুরনো প্রশ্নপত্র সমাধানের মাধ্যমেই তিনি নিজেকে তৈরি করেছেন। সেই জেদের ফলও মিলেছে হাতেনাতে; পরের বছরই তিনি জে-ই-ই মেইন ও অ্যাডভান্সড—দুটো পরীক্ষাতেই বাজিমাত করেন। সুযোগ পান তিরুবনন্তপুরমের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (IIST) অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার।

IIST-তে থাকাকালীন সঙ্কেত ভিড়ের মাঝে আলাদা পথ বেছে নিয়েছিলেন। যখন সহপাঠীরা প্রথাগত বিষয় বেছে নিচ্ছিলেন, তিনি তখন জটিল ‘ভাইব্রেশনস অ্যান্ড অ্যাকোস্টিকস’ বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা করেন। তাঁর মেধার স্বাক্ষর রাখতে তিনি জাপানের ‘শিনরা ইনক’-এর মতো সংস্থায় তিন মাসের রিসার্চ প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ পান। ৮.২ সিজিপিএ নিয়ে পাস করার পর আসে কাঙ্ক্ষিত ডাক। সফল ইন্টারভিউয়ের পর তিনি এখন ইসরো প্রপালশন কমপ্লেক্সে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায়।

সঙ্কেতের এই সাফল্যের সবচেয়ে নাটকীয় দিক হলো তাঁর পরিবারকে না জানিয়ে ইন্টারভিউ দিতে যাওয়া। তিনি চেয়েছিলেন সাফল্য নিয়ে তবেই মা-বাবাকে সারপ্রাইজ দিতে। সঙ্কেতের এই অসাধ্য সাধনে আজ গর্বিত তাঁর মা সুনীতা সিং, বাবা গুলশান কুমার এবং ভাই হর্ষিত। অভিভাবকরা এখন বলছেন, সন্তানের ওপর বিশ্বাস রাখলে তারা নিজেরাই সাফল্যের গল্প লিখে ফেলতে পারে। সঙ্কেতের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক অসীম দুবের কথায়, সঙ্কেতের এই সাফল্য প্রমাণ করে—লক্ষ্য স্থির রেখে কঠোর পরিশ্রম করলে আকাশ জয় করা কেবল সময়ের অপেক্ষা।