মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আর লোহিত সাগরের অস্থিরতায় যখন বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক বাণিজ্য টালমাটাল, ঠিক তখনই এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল ভারত সরকার। বিদেশি বিমা সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের বাণিজ্যকে স্বনির্ভর করতে কেন্দ্র অনুমোদন দিল ১২,৯৮০ কোটি টাকার ‘ইন্ডিয়া মেরিন ইন্স্যুরেন্স পুল’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত ভারতের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল।
কেন এই দেশীয় বিমা পুলের প্রয়োজন ছিল?
এখনও পর্যন্ত ভারতের জাহাজগুলোকে বিমার জন্য মূলত আন্তর্জাতিক পিঅ্যান্ডআই (P&I) ক্লাবগুলোর ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু এর কিছু বড় ঝুঁকি ছিল:
বিশ্বাসঘাতকতা: যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সময় এই বিদেশি সংস্থাগুলো হঠাৎ বিমা সুরক্ষা তুলে নেয়।
আকাশছোঁয়া খরচ: অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে প্রিমিয়ামের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিপদ: তেল ছড়িয়ে পড়া বা জাহাজের সংঘর্ষের মতো ঘটনায় বিদেশি শর্ত মেনে চলতে হতো।
১২,৯৮০ কোটি টাকার সার্বভৌম গ্যারান্টি আসলে কী?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, সরকার এই পুলের জন্য ১২৯.৮ বিলিয়ন রুপির একটি ‘সার্বভৌম গ্যারান্টি’ দিচ্ছে। এর অর্থ হলো:
ঢাল হিসেবে সরকার: বড় কোনো দুর্ঘটনা বা যুদ্ধজনিত ক্ষতি হলে সরকার নিজেই এই বিশাল তহবিল নিয়ে ত্রাতার ভূমিকা পালন করবে।
কারা পাবেন সুবিধা: ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ, ভারতীয় নিয়ন্ত্রণে থাকা জাহাজ এবং ভারতীয় বন্দরে আসা সব জাহাজ এই সুরক্ষার আওতায় আসবে।
আপনার পকেটে এর প্রভাব কী?
সমুদ্রপথে বিমার খরচ বাড়লে পেট্রোল-ডিজেল থেকে শুরু করে আমদানিকৃত সব পণ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু এই দেশীয় বিমা ব্যবস্থা থাকলে:
স্থিতিশীল দাম: মাল পরিবহনের খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হুটহাট বাড়বে না।
আত্মনির্ভরতা: বিদেশি নিষেধাজ্ঞার ভয় ছাড়াই ভারত নিজের শর্তে বাণিজ্য চালাতে পারবে।
এক নজরে নতুন ব্যবস্থার সুবিধা:
| বিশেষত্ব | সুবিধা |
| তহবিল | ১২,৯৮০ কোটি টাকার সরকারি গ্যারান্টি। |
| সুরক্ষা | জাহাজের যন্ত্রপাতি, পণ্য এবং যুদ্ধকালীন ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত। |
| পরিচালনা | একটি বিশেষ দেশীয় বোর্ড এই বিমা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করবে। |
| লক্ষ্য | বিমা ক্ষেত্রে বিদেশি একাধিপত্য ও ‘অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল’ বন্ধ করা। |





