যুদ্ধবিরতির শর্তে ইজরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করতেই হবে! হিজবুল্লা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি শীর্ষ ইরানি নেতার!

তেহরান লেবাননের শক্তিশালী হিজবুল্লা গোষ্ঠীর সুরক্ষার বিষয়টিকে তাদের দেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও “কৌশলগত আবশ্যিকতা” বলে মনে করে। সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো শান্তি চুক্তির প্রধান শর্ত হিসেবে লেবাননের বিরুদ্ধে ইজরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের “পূর্ণাঙ্গ ও শর্তহীন সমাপ্তি” ঘটানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। মধ্য এশিয়ায় ক্রমশ বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই খামেনেইর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় খামেনেই হিজবুল্লার নতুন মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম ও সংগঠনের বীর যোদ্ধাদের পাঠানো আনুগত্যের চিঠির জবাব দেন। সেই চিঠিতে তিনি হিজবুল্লা যোদ্ধাদের “ধৈর্য, মহত্ত্ব ও অতুলনীয় আত্মত্যাগ”-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং হিজবুল্লাকে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের সম্মুখসারিতে থাকা একটি “অটল পাহাড়” হিসেবে অভিহিত করেন। খামেনেই অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে “জিহাদ ও প্রতিরোধ ছাড়া সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।” তাঁর মতে, এই অবিরাম প্রতিরোধই শেষ পর্যন্ত সত্যের পথে থাকা যোদ্ধাদের জন্য ঐতিহাসিক “ঐশ্বরিক বিজয়” নিশ্চিত করবে।
মোজতবা খামেনেই আরও স্পষ্ট করে জানান যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান হিজবুল্লা এবং সামগ্রিকভাবে লেবাননের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষা করাকে তাদের রাষ্ট্রীয় ও কৌশলগত দায়িত্ব বলে মনে করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বা চাপে হওয়া যেকোনো যুদ্ধ অবসানের চুক্তিতে অবশ্যই লেবাননের বিরুদ্ধে চলা ইজরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এর পাশাপাশি, দক্ষিণ লেবাননের সাধারণ মানুষের অসামান্য ধৈর্য ও সমর্থনের প্রশংসা করার পাশাপাশি নিহত হিজবুল্লা প্রধান সাইদ হাসান নাসরুল্লা এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের অন্যান্য শীর্ষ কমান্ডারদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তিনি। খামেনেইর দাবি, দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যোদ্ধারা হিজবুল্লাকে একদা একটি সাধারণ “চারাগাছ” থেকে আজ এক “শক্তিশালী বৃক্ষে” পরিণত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনেইর এই বিস্ফোরক মন্তব্য হিজবুল্লার প্রতি তেহরানের অবিচল রাজনৈতিক ও আদর্শগত সমর্থনকে আরও একবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জোরালোভাবে তুলে ধরল। এই বিবৃতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো বৃহত্তর কূটনৈতিক সমঝোতাকে লেবাননের বিরুদ্ধে ইজরায়েলি সামরিক পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষার শর্তের সঙ্গে জোড়ালোভাবে বাঁধতে চাইছে।
এর আগে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে সাফ জানিয়েছিলেন যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় করতে এবং লেবানন রাষ্ট্রকে তার নিজস্ব ভূখণ্ডে পূর্ণ কর্তৃত্ব বিস্তারের সুযোগ করে দিতে ইজরায়েলের সামরিক প্রভাব সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা অত্যন্ত অপরিহার্য। ট্রাম্প ও আউনের সেই ঐতিহাসিক বৈঠকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা এবং লেবাননের সেনাবাহিনীতে মার্কিন আর্থিক সহায়তা ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। তবে তেহরানের এই সাম্প্রতিক কড়া অবস্থান প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতিতে হিজবুল্লার প্রভাব কমানো পশ্চিমা শক্তির জন্য সহজ হবে না।