বর্তমান বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের প্রেক্ষাপট আমূল বদলে গিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত হোক বা ইরান-ইসরায়েলের আকাশপথে লড়াই—প্রতিটি ক্ষেত্রেই যুদ্ধের মূল নিয়ামক হয়ে উঠেছে ড্রোন বা ইউএভি (UAV)। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ভারত তার সামরিক শক্তিকে ড্রোন প্রযুক্তিতে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। ২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের ড্রোন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত এরই অন্যতম বড় প্রমাণ।
কেন ড্রোনের ওপর এত গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত? প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে (অবসরপ্রাপ্ত) জানিয়েছেন, যুদ্ধের ধরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তাঁর মতে, ড্রোন মানেই কেবল ছোট কোয়াডকপ্টার নয়; আজকের আধুনিক যুদ্ধে এগুলোই সেনার চোখ এবং আক্রমণের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর কৌশল:
ত্রি-বাহিনীতে ড্রোনের আধিপত্য: ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনী—তিনটি শাখাতেই বিপুল পরিমাণ ড্রোন অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
আত্মনির্ভর ভারত: ড্রোন তৈরির ক্ষেত্রে এখন আর বিদেশের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয় ভারত। দেশীয় সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যাধুনিক ড্রোন তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এর ফলে একদিকে যেমন খরচ কমছে, তেমনি সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে দেশ স্বনির্ভর হয়ে উঠছে।
অপারেশনাল দক্ষতা: ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারত তার আকাশসীমা সুরক্ষায় ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশেষ জোর দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া এখন কোনো দেশই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে সুবিধা করতে পারবে না। সীমান্ত পাহারা থেকে শুরু করে শত্রুপক্ষের ওপর নিখুঁত নজরদারি—সবক্ষেত্রেই ড্রোনের ব্যবহার ভারতকে এক অনন্য সামরিক সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দেবে।





