যুদ্ধক্ষেত্রে কিম জং উনের এন্ট্রি! ট্রাম্পকে ঘাবড়ে দিয়ে পুতিনের পাশে দাঁড়ানো উত্তর কোরিয়ার নেতার চাঞ্চল্যকর কূটিনীতি!

উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম লিডার কিম জং উন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি প্রবেশ করে মস্কোকে সমর্থন জানানোর পর থেকেই গোটা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন এবং অভাবনীয় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কিমের এই আকস্মিক পদক্ষেপে যুদ্ধ কোন মোড় নেবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতদিন আমেরিকা, জার্মানি, ব্রিটেনসহ যে সমস্ত ন্যাটো দেশ ইউক্রেনকে লাগাতার ভারী ও মারণাস্ত্র সরবরাহ করে আসছিল, তারা এখন উত্তর কোরিয়ার এই প্রকাশ্য হস্তক্ষেপে মারাত্মকভাবে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে, কিম জং উন রাশিয়ায় ৫০০ সেনা মোতায়েন করার পাশাপাশি অত্যাধুনিক ও বিপজ্জনক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে শুধু ইউক্রেনই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পশ্চিমা সামরিক জোটের মধ্যেও ব্যাপক আতঙ্ক ও খলবளி ছড়িয়ে পড়েছে।

নিয়মিত পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি পরমাণু হামলার হুমকি দেওয়া কিমের সঙ্গে সংঘাতের অর্থ যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা ওয়াশিংটন ভালোভাবেই বুঝতে পারছে। ঠিক এই কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন যে, খ্যাপাটে কিম জং উন কখন যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে ঘুরিয়ে দেবেন, তা আগাম অনুমান করা অসম্ভব। অথচ একসময় উত্তর কোরিয়া এবং কিমকে নিয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ও বড় বড় মন্তব্য করতেন। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সেই পুরনো সুর সম্পূর্ণ বদলে গেছে। সম্প্রতি ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে তাঁকে উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম লিডার কিম জং উনের সঙ্গে পাশাপাশি হাঁটতে দেখা যাচ্ছে।

আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে দশকের পর দশক ধরে চলা পরমাণু অস্ত্র ও বৈরিতার আবহে ট্রাম্পের এই ছবি প্রকাশ বিশ্ব রাজনীতিকে রীতিমতো স্তম্ভিত করে দিয়েছে। ওই ছবির ক্যাপশনে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, ছবিতে তাঁদের মুখ গম্ভীর বা শক্ত মনে হলেও বাস্তবে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশ ভালো। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লিখেছেন যে, কিম জং উন এবং তাঁর মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া রয়েছে। ট্রাম্প যে ছবিটি শেয়ার করেছেন, তা ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত দুই নেতার ঐতিহাসিক প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের সময়কার। বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় হলো, গত জুন মাসেও ট্রাম্প ঠিক একই ছবি শেয়ার করেছিলেন, তবে সেবার তিনি কোনো মন্তব্য বা ক্যাপশন যোগ করেননি।

ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রপতি কার্যকালের মেয়াদকালে কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর মোট তিনবার সাক্ষাৎ হয়েছিল। ২০১৮ সালের জুন মাসে সিঙ্গাপুর বৈঠককে বিশ্ব কূটনীতিতে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল, কারণ সেটাই ছিল মার্কিন রাষ্ট্রপতি এবং উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। সেই বৈঠকের পর বিশ্বজুড়ে আশা তৈরি হয়েছিল যে বুঝি দুই দেশের দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী বৈরিতা কমবে এবং পিয়ংইয়ং তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের পথে হাঁটবে। কিন্তু সেই আশার বেলুন বেশি দিন টেকেনি। ২০১৯ সালে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ এবং উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

তা সত্ত্বেও ট্রাম্প অতীতে একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি কিম জং উনের সঙ্গে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এমনকি ২০২৫ সালের অক্টোবরেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে আবারও দেখা করতে অত্যন্ত ইচ্ছুক। অন্যদিকে, পিয়ংইয়ং তাদের পরমাণু অস্ত্রাগার কোনোভাবেই বিসর্জন দিতে রাজি নয়। এই সমস্ত পটভূমির মাঝে যখন উত্তর কোরিয়ার একরোখা একনায়ক সর্বশক্তি দিয়ে রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই নমনীয় মনোভাব বিশ্বজুড়ে এক গভীর রহস্যের জন্ম দিয়েছে। এখন গোটা বিশ্বের নজর রয়েছে এই পরিস্থিতির ওপর, এবং দেখার বিষয় হলো মস্কো ও ওয়াশিংটনের এই জটিল সমীকরণে কিম জং উন শেষ পর্যন্ত কী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।