দিল্লির রাস্তা কি তবে ইউপি হয়েই? ২০২৭-এর মহারণে বড় মাস্টারস্ট্রোক বিজেপির!

ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সাংগঠনিক রাজনীতিতে উত্তরপ্রদেশ সবসময়ই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। দেশের সবচেয়ে বেশি লোকসভা আসন থাকা এই রাজ্যটিকে জাতীয় স্তরে ক্ষমতার মূল সিঁড়ি হিসেবেই বিবেচনা করে রাজনৈতিক মহল। অতীতে অমিত শাহ কিংবা জেপি নাড্ডার মতো শীর্ষ নেতারা এই রাজ্যের সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলানোর পরই জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় পদে আসীন হয়েছেন। আর এবার সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশের ইনচার্জ হিসেবে দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ের নাম ঘোষণা করল বিজেপি। তাঁর সঙ্গে সহ-ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জগদীশ ঈশ্বরভাই পটেলকে।
ভোটের সমীকরণ ও বড় পরীক্ষা
বছর ঘুরলেই ২০২৭-এ উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে দলের ঘর গুছিয়ে নিতে এখন থেকেই তৎপর গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে দলের ফল প্রত্যাশামতো না হওয়ায় আগামী লড়াইয়ে ভুলের কোনো মার্জিন নেই। ৪০৩টি বিধানসভা এবং ৮০টি লোকসভা আসনের এই রাজ্যে তাই সংগঠনের ভিত শক্ত করাই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য।
কেন বিনোদ তাওড়েই ভরসা?
মহারাষ্ট্রের ওবিসি সম্প্রদায়ের নেতা বিনোদ তাওড়ে মূলত গ্রাউন্ড লেভেলে সংগঠন সামলানো এবং বিভিন্ন মহলের মধ্যে সমন্বয় সাধনে সিদ্ধহস্ত হিসেবে পরিচিত। এর আগে বিহারে দলের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এনডিএ-র বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন থেকে শুরু করে একাধিক রাজ্যে দলের কৌশলগত দায়িত্বে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন এই নেতা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরপ্রদেশের মতো জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার, রাজ্য সংগঠন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় বজায় রাখাই এখন তাওড়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৪-এর ধাক্কা কাটিয়ে ২০২৭-এ রাজ্যে টানা তৃতীয়বারের জন্য সরকার গড়ার লক্ষ্যেই এই রদবদল করেছে বিজেপি।