অসমে দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। আর সেই রাজকীয় শপথের মঞ্চ থেকেই যেন প্রতিবেশী রাজ্য বাংলার জন্য এক বিশেষ বার্তা পৌঁছে গেল। অনুষ্ঠানের মাঝেই বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হিমন্তের একটি পোস্ট ঘিরে এখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। দুই নেতার রহস্যময় কথোপকথন বুঝিয়ে দিচ্ছে, পূর্ব ভারতে এবার এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা হতে চলেছে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ এনডিএ (NDA) শাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে শপথ নেন হিমন্ত। শপথ নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দু’টি ছবি পোস্ট করেন তিনি। ক্যাপশনে যা লিখেছেন, তাতেই শুরু হয়েছে জল্পনা। হিমন্ত লেখেন, “খারাপ দিন শুরু হয়ে গেল… (কাদের কথা বলছি বুঝতেই পারছেন)।”
শুভেন্দুর তাৎপর্যপূর্ণ জবাব হিমন্তের এই গুগলিতে ছক্কা হাঁকাতে দেরি করেননি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। পোস্টের রিপ্লাইতে তিনি লেখেন, “বুঝতে পারার জন্য কোনো পুরস্কার নেই।” সরাসরি কারও নাম না নিলেও দুই হেভিওয়েট নেতার এই ‘ডিজিটাল ইশারা’ যে রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্য করেই, তা বুঝতে বাকি নেই কারও।
নজরে অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নিরাপত্তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পোস্টের নেপথ্যে রয়েছে দুই রাজ্যের অভিন্ন সমস্যা—বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা। দুই রাজ্যেই এখন বিজেপি সরকার। ফলে অনুপ্রবেশ রুখতে যে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে, এই পোস্ট তারই আগাম সঙ্কেত।
শুভেন্দুর বড় সিদ্ধান্ত: বাংলায় দায়িত্ব নেওয়ার পরেই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে (BSF) কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করবে তাঁর সরকার।
হিমন্তের হুঙ্কার: অসমের মুখ্যমন্ত্রী বরাবরই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কঠোর। এবার বাংলার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করলে উত্তর-পূর্ব ভারতে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব।
নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ? হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং শুভেন্দু অধিকারী—দুজনই লড়াকু নেতা হিসেবে পরিচিত। অসম ও বাংলায় বিজেপির শক্তিবৃদ্ধিতে তাঁদের রসায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শপথের মঞ্চে তাঁদের এই প্রকাশ্য হৃদ্যতা আসলে বিরোধীদের জন্য এক কড়া হুঁশিয়ারি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত অফিসারদের বরখাস্ত করে শুভেন্দু প্রশাসনকে ঝাড়াই-বাছাই করছেন, অন্যদিকে হিমন্তের এই সমর্থন সেই লড়াইকে আরও অক্সিজেন দিল।
সব মিলিয়ে, ‘খারাপ দিন’ আসলে কাদের শুরু হলো, তা নিয়ে এখন সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া। তবে দুই মুখ্যমন্ত্রীর এই কো-অর্ডিনেশন যে পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল আনতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।





